‘নিজের বেলায় আঁটিসুটি…!’ মহিলা পুলিশকে হেনস্থার অভিযোগে রাহুল গান্ধীকে তুলোধনা বিজেপির!

দিল্লিতে বিরোধী জোটের বিক্ষোভ প্রদর্শন চলাকালীন ডিউটিরত এক মহিলা পুলিশকর্মীর সঙ্গে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর ‘অশালীন আচরণ’ ও অসৌজন্যমূলক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ে একটি সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সি আর কেশবন তীব্র আক্রমণ শানিয়ে অবিলম্বে রাহুল গান্ধীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছেন। একই সঙ্গে বারাণসীতে আয়োজিত অন্য একটি প্রেস ট্রাস্ট মিটেও বিজেপির পক্ষ থেকে রাহুলকে ‘নৈরাজ্যবাদী’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে।
চেন্নাইয়ের বৈঠকে বিজেপি মুখপাত্র সি আর কেশবন অভিযোগ করেন, দিল্লির আন্দোলনস্থলে এক দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি তথা বিরোধী নেতার এহেন মনোভাব দেশের নারী সমাজের কাছে অত্যন্ত বিতর্কিত ও ভুল বার্তা প্রেরণ করছে। রাহুলের দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করে কেশবন বলেন, “এক দিকে রাহুল গান্ধী ‘পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা চূর্ণ করা’ নিয়ে বড় বড় বুলি আওড়ান, আর অন্য দিকে নিজেই অন-ডিউটি মহিলা পুলিশকর্মীর সঙ্গে এমন অনুচিত ও অসৌজন্যমূলক আচরণে লিপ্ত হন!” এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কংগ্রেস নেতাকে নিঃশর্তে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে বলে জোরালো দাবি জানান তিনি।
অন্য দিকে, বারাণসীতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীনও রাহুলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা প্রকাশের তীব্র বিরোধিতা করে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “যদি নির্বাচন কমিশন নিয়েই ওঁর এত আপত্তি ও অবিশ্বাস থাকে, তবে সাহসে কুলালে রাহুলের উচিত অবিলম্বে নিজের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া। ভুলে গেলে চলবে না, এই নির্বাচন কমিশনের পরিচালনেই কেরল ও তামিলনাড়ুতে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে কংগ্রেস ও তাদের সহযোগীরা জয়লাভ করে ক্ষমতায় এসেছে।” নবীনের সাফ কথা, কংগ্রেসের এই অংশের মানসিকতাই পুরোপুরি নৈরাজ্যবাদী এবং সমাজকে বিভ্রান্ত করার খেলায় মেতেছে তারা।
উল্লেখ্য, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বর্তমানে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছে বিরোধী শিবির। গত বুধবারই যন্তর মন্তরের দিকে প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় দিল্লি পুলিশ রাহুল গান্ধীসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সাংসদকে আটক করেছিল। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দিল্লির কনট প্লেসের একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় ‘ইন্ডি’ জোটের শীর্ষ নেতাদের মধ্যাহ্নভোজে আমন্ত্রণ জানান কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। ওই বৈঠকের পরেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিকে আরও তীব্র করার নতুন রাজনৈতিক রণকৌশল তৈরি করা হচ্ছে। তবে সমস্ত বিরোধিতাকে সপাটে উড়িয়ে দিয়ে নির্বাচন কমিশন নিজেদের স্বশাসিত অবস্থানে অনড় রয়েছে এবং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে নীতিগত ভিন্নমত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই স্বাভাবিক অঙ্গ।