নিউটাউনের পর আসানসোল! রাজ্যের দুই প্রান্তের ফ্ল্যাট থেকে দুই মহিলার রহস্যমৃত্যুতে দানা বাঁধল চরম রহস্য!

রাজ্যের দুইপ্রান্তে দুটি পৃথক ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একদিকে নিউটাউনের সাপুরজি সুখবৃষ্টি আবাসন থেকে এক মহিলা তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়েছে, অন্যদিকে আসানসোলের রানিগঞ্জে অপর এক মহিলার রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে দানা বেঁধেছে তীব্র গুঞ্জন। জোড়া এই ঘটনায় পুলিশি তদন্ত শুরু হলেও মৃত্যুর আসল কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিউটাউনের সাপুরজি সুখবৃষ্টি আবাসনের এ ব্লকের একটি বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে অপলা প্রধান (৩০) নামের এক তরুণী তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর গলিত দেহ উদ্ধার করা হয়। জামশেদপুরের বাসিন্দা অপলা কর্মসূত্রে ওই ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। গত কয়েকদিন ধরে তাঁর কোনো সাড়াশ শব্দ না পাওয়ায় এবং খোঁজ না মেলায় সন্দেহ দানা বাঁধে। এরপর গভীর রাতে ফ্ল্যাটের ভিতর থেকে তাঁর পচাগলা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় মৃতার বেশ কজন পরিচিত তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং পরিবারের লোকজনকে খবর দেওয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, আসানসোলের রানিগঞ্জের জে কে নগর কোলিয়ারি এলাকার একটি আবাসন থেকে অনিতা দেবী নামের এক মহিলার দেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অনিতা দেবী ওই আবাসনে একাই থাকতেন। তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে আলাদা থাকেন এবং ছেলে-মেয়েরাও বাইরে থাকেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। দীর্ঘক্ষণ তাঁকে ঘরের বাইরে না দেখায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে তাঁরা ঘরের ভিতরে তাঁর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, ঘরের ভেতরে জিনিসপত্র এলোমেলো ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েছিল। মহিলার ওপর কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন বা ধস্তাধস্তি হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার খবর পেয়েই রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের একটি বিশাল দল। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশ কমিশনার ডঃ প্রণব কুমার ও ডিসিপি সেন্ট্রাল ধ্রুব দাস সহ স্থানীয় উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকেরা। নিখুঁত তদন্তের স্বার্থে সমগ্র আবাসন চত্বরটি ঘিরে রাখা হয়েছে এবং ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করছে। দুটি ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কী রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশের চূড়ান্ত তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।