সমালোচকদের মুখে ছাই দিয়ে অদম্য শতরান শ্রেয়সের! সঞ্জুকে নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিলেন সুনীল গাভাসকর!

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দুর্দান্ত ও নান্দনিক শতরান করে নিজের ব্যাটিং ফর্ম নিয়ে চলা সমস্ত সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন ভারত অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। অধিনায়কের এই মারকাটারি ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংসে ভর করে ১৭২ রানের লক্ষ্য খুব সহজেই পেরিয়ে যায় টিম ইন্ডিয়া। আইয়ারের এমন ধ্বংসাত্মক ব্যাটিং পারফরম্যান্স দেখে ভূয়সী প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাসকর।
গাভাসকরের মতে, এই শতরান শ্রেয়সের কন্নড় কেরিয়ারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ, অধিনায়কত্বের গুরুদায়িত্ব কাঁধে পাওয়ার পর থেকেই ব্যাট হাতে তাঁর ফর্ম নিয়ে বিগত কিছু দিনে নানা প্রশ্ন উঠছিল। জিওস্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গাভাসকর বলেন, “শ্রেয়স আইয়ারের ইনিংসটি ছিল একেবারেই অসাধারণ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের কাছে ওকে থামানোর কোনো উপায়ই ছিল না। ওরা যে লাইন বা লেংথেই বল করুক না কেন, আইয়ারের ব্যাটে তার দারুণ জবাব ছিল। বিশেষ করে রোমারিও শেফার্ডের বলে মারা ওর আপার-কাট শটটি ছিল দেখার মতো।”
মাত্র ২৮ বলে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করার পর আরও বেশি আক্রমণাত্মক মেজাজ নেন আইয়ার। পরের মাত্র ১৫ বলে তিনি যোগ করেন আরও ৫২ রান। শেষ পর্যন্ত ১০২ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন তিনি। গাভাসকর আরও যোগ করেন, “আইয়ারের জন্য একটি বড় ইনিংস খেলা ভীষণ জরুরি ছিল এবং প্রথম টি-টোয়েন্টিতেই ও সেটা করে দেখাল। ৫০ থেকে ১০২ রান ছুঁতে ও কেবল ১৫ বল নিয়েছে। ওর ব্যাটিং ফর্ম নিয়ে যে সমস্ত প্রশ্ন উঠছিল, এই শতরান তার উপযুক্ত জবাব দিয়েছে। এই ইনিংস প্রমাণ করল শ্রেয়স আইয়ার আবার নিজের সেরা ছন্দ ফিরে পেয়েছে।”
এদিকে, সঞ্জু স্যামসনের দলীয় জায়গা নিয়েও নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ওপেনার হিসেবে কামব্যাক করে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ১১ রান করে আউট হন সঞ্জু। এরপরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে যে, তাঁর পরিবর্তে উদীয়মান তরুণ বৈভব সূর্যবংশীকে সুযোগ দেওয়া উচিত কি না। তবে সুনীল গাভাসকর এখনই সঞ্জুকে দল থেকে বাদ দেওয়ার পক্ষে একেবারেই নন। তাঁর দ্ব্যর্থহীন মত, একটি মাত্র ম্যাচের ব্যর্থতার ভিত্তিতে কোনো প্রতিভাবান ক্রিকেটারকে একাদশের বাইরে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়।
সানি স্পষ্ট জানান, “ওপেনার হিসেবে সঞ্জু আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে জোড়া অর্ধশতরান করেছে। এশিয়ান গেমসে কিছু ম্যাচ খারাপ গেলেও সে তখন তিন নম্বরে ব্যাট করছিল, তাই তার জন্য তাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো ভুল। এখন ও ফের প্রিয় ওপেনিং পজিশনে ফিরেছে এবং প্রথম ম্যাচে ১১ রান করে আউট হয়েছে। কিন্তু কেবল এই একটিমাত্র ইনিংসের কারণে আমি তরুণ বৈভব সূর্যবংশীর জন্য সঞ্জুকে বসিয়ে দেওয়ার পক্ষে নই।” গাভাসকরের মতে, সঞ্জুকে নিজের স্বাভাবিক পজিশনে থিতু হওয়ার জন্য এবং মানিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। ড্রেসিংরুমে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে ঘনঘন পরিবর্তন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “প্রতিটি ম্যাচের পর দল বদল করা যায় না, এতে দলের অন্দরে অপ্রয়োজনীয় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।”