জোমাটো-সুইগির একাধিপত্য শেষ? বাজারে আসছে ফ্লিপকার্ট ও র‍্যাপিডো, কমবে খাবারের দাম?

ভারতের ফুড ডেলিভারি মার্কেটে নতুন কিছু সংস্থা পা রাখায় সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এক বিরাট সুখবর সামনে এসেছে। এর ফলে খাবারের দাম কমা, পছন্দের তালিকা দীর্ঘ হওয়া এবং বড় শহরের বাইরেও এই পরিষেবা পৌঁছে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্রোকারেজ সংস্থা বার্নস্টেইনের (Bernstein) সাম্প্রতিক একটি রিপোর্টে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, র‍্যাপিডো (Rapido) এবং ফ্লিপকার্টের (Flipkart) মতো নতুন প্লেয়াররা বাজারে প্রবেশ করায় প্রতিযোগিতা প্রতিদিন তীব্র আকার ধারণ করছে। এর জেরে বর্তমান ফুড ডেলিভারি সংস্থাগুলি নতুন ও অভিনব ব্যবসায়িক মডেল নিয়ে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে কিংবা তা ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে। বর্তমানে ভারতের বিশাল ফুড সার্ভিস মার্কেটের মাত্র ১৫ শতাংশ ফুড ডেলিভারির আওতাভুক্ত। দেশের শীর্ষস্থানীয় দুই প্ল্যাটফর্ম জোমাটো এবং সুইগির বার্ষিক সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা মোটামুটি ৮.৫ থেকে ৯.৫ কোটির মধ্যে ঘোরাফেরা করে। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দেয় যে, ভারতের অনলাইন ফুড ডেলিভারি বাজার এখনও পুরোপুরি বিকশিত নয় এবং এর পরিধি সম্প্রসারণের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। বার্নস্টেইনের রিপোর্ট অনুযায়ী, নতুন কোম্পানিগুলির বাজার প্রবেশ করার ফলে সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিকটি হতে পারে কম গড় অর্ডার ভ্যালু (AOV) এবং ছোট শহরগুলিতে পরিষেবার ব্যাপক বিস্তার। বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে যে, র‍্যাপিডো বর্তমানে যে ‘নো বা লো কমিশন’ মডেলের ওপর পরীক্ষামূলকভাবে কাজ চালাচ্ছে, তার মূল লক্ষ্যই হলো কম দামের ছোট অর্ডারগুলিকে সহজলভ্য করে তোলা। একই সঙ্গে, ধারণা করা হচ্ছে যে ফ্লিপকার্টও কম কমিশন নেওয়ার পথেই হাঁটবে। এর ফলে দেশের প্রথম কুড়িটি বড় শহরের গণ্ডি পেরিয়ে ছোট ও মফস্বল শহরগুলিতেও অনলাইন ফুড ডেলিভারি পরিষেবা সফলভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে, যা এতদিন সেভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। তবে এই সমস্ত সম্ভাবনার মাঝেও খরচের চ্যালেঞ্জ কতটা কঠিন, সে বিষয়েও সতর্ক করে দিয়েছে বার্নস্টেইন। সংস্থার মতে, গ্রাহকদের জন্য খাবারের দাম কতটা কমবে তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে নতুন প্ল্যাটফর্মগুলি তাদের ডেলিভারি ও অন্যান্য পরিচালনাগত খরচ কতটা কমাতে সক্ষম হয় তার ওপর। রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, বর্তমানে প্রতিটি অর্ডারে প্রায় ১৩২ টাকা খরচ হয় এবং এই প্রচলিত খরচ কাঠামোতে রাতারাতি বড় কোনো পরিবর্তন আনার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। তা সত্ত্বেও বিশ্লেষকদের অনুমান, ডেলিভারি খরচ, অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ এবং লাভের প্রত্যাশা কিছুটা কমিয়ে প্রতি অর্ডারে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব। এই সাশ্রয় হওয়া অর্থ রেস্তোরাঁ এবং সাধারণ গ্রাহক—উভয়ের সঙ্গেই ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে এই প্রতিযোগিতা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। কারণ নতুন প্ল্যাটফর্মগুলি নিজেদের গ্রাহক ভিত্তি মজবুত করতে বাজারে আকর্ষণীয় ছাড় এবং বিভিন্ন অফার নিয়ে হাজির হবে। যদিও এই ধরনের ভর্তুকিযুক্ত অফার দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী নাও হতে পারে, তবে স্বল্প মেয়াদে এর সুবাদে ভারতীয় গ্রাহকরা যে দারুণভাবে লাভবান হবেন, তা বলাই বাহুল্য।