জেন জি জুজুর ভয়ে কাঁপছে পাকিস্তান! ভারত-বাংলাদেশ কাঁপানোর পর কি তবে এবার পালা ইসলামাবাদের?

প্রতিবেশী দেশ ভারতে জেন জি (Gen Z) প্রজন্মের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সক্রিয়তা এবং তাদের যুগান্তকারী প্রভাব দেখে রীতিমতো নড়েচড়ে বসেছে পাকিস্তান। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ছাড়াও নেপাল ও বাংলাদেশে যেভাবে তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে ক্ষমতার বড় পালাবদল ঘটেছে, তাতে পাকিস্তান সরকারও যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। নিজেদের দেশেও যুব সমাজের সম্ভাব্য বিক্ষোভ ও অসন্তোষ এড়াতে এবার কোমর বেঁধে আসরে নেমেছে শাহবাজ শরিফ প্রশাসন। দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবার তরুণ প্রজন্মকে তুষ্ট করতে এবং তাদের চাকরি ও ব্যবসার মূল স্রোতে ফেরাতে এক বিরাট যুব কর্মসংস্থান নীতি চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
বুধবার রাজধানী ইসলামাবাদে এক জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দেশের প্রথম ‘জাতীয় যুব কর্মসংস্থান নীতি’ জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। এই নতুন নীতির মূল লক্ষ্য হলো বেকার যুবকদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং তাঁদের স্বাবলম্বী উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এই নীতিতে মহিলাদের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে ৫০ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত রাখার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, গতানুগতিক বেতনের চাকরির ইঁদুরদৌড় থেকে তরুণদের বের করে এনে নিজস্ব স্টার্টআপ বা ব্যবসা শুরু করার উৎসাহ দিতে বার্ষিক বরাদ্দের অন্তত ১০ শতাংশ সরাসরি এই স্টার্টআপগুলির জন্য বরাদ্দ রাখার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে দেশের তরুণদের বিশ্বমানের করে তুলতে এক অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপ নিয়েছে পাক সরকার। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে দেশের ১,০০০ জন তরুণ ও তরুণীকে অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং তথ্যপ্রযুক্তির বিশেষ উচ্চশিক্ষার জন্য সরাসরি চীনে পাঠানো হবে। এই পুরো ট্রেনিংয়ের যাবতীয় খরচ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকেই বহন করা হবে। পাশাপাশি, শিক্ষার মানোন্নয়নে দেশজুড়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে ইতিমধ্যে ৭ লক্ষ ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়েছে এবং চলতি বছরে আরও ২.৫ লক্ষ নতুন ক্রোমবুক মেধাবীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
শিক্ষাব্যবস্থার মান উন্নত করতে পাকিস্তান জুড়ে ‘ড্যানিশ স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যেখানে দেশের সাধারণ ঘরের যোগ্য শিক্ষার্থীরাও এচিফসন কলেজের সমমানের উন্নত শিক্ষা লাভ করতে পারছে। এর পাশাপাশি রাজধানী ইসলামাবাদে একটি অত্যাধুনিক ‘ড্যানিশ বিশ্ববিদ্যালয়’ স্থাপনের ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানকার পঠনপাঠন আগামী বছর থেকেই শুরু হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ বিজ্ঞানের পরিবর্তে প্রযুক্তি, কারিগরি শিক্ষা এবং আধুনিক বিজ্ঞানের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। অর্থনৈতিক অবস্থা যাই হোক না কেন, একমাত্র মেধার ভিত্তিতেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি নেওয়া হবে। এছাড়া যুব সমাজকে সাবলম্বী করতে এই বিশেষ মঞ্চ থেকেই ‘জাতীয় বিদ্যুৎ খাত উদ্ভাবন কর্মসূচি’ এবং ‘দক্ষতা দূত কর্মসূচি’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলিরও উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শরিফ।