‘জেনারেল ডায়ারের মতো হামলা চালানো হয়েছে!’ নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত পুলিশি নির্যাতনে ক্ষোভ কেজরিওয়ালের!

সোমবার দিল্লির যন্তরমন্তরে তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যে নজিরবিহীন পুলিশি লাঠিচার্জ, দমনপীড়ন ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতি। এই বর্বরোচিত ঘটনার জেরে খোদ কেন্দ্রীয় নরেন্দ্র মোদী সরকারকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় আক্রমণ করেছেন আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক তথা দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন যে, সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের বর্বরতা অতীতের সমস্ত ঔপনিবেশিক রেকর্ড ভেঙে ব্রিটিশ আমলকেও বহু পেছনে ফেলে দিয়েছে। ঘটনার দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া অসংখ্য হৃদয়বিদারক ভিডিওর প্রসঙ্গ টেনে কেজরিওয়াল বলেন যে, সেখানে স্পষ্ট দেখা গেছে কীভাবে ছোট ছোট শিশু ও তরুণী মেয়েরা পুলিশি তান্ডবের মুখে হাত জোড় করে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিল, অথচ বিন্দুমাত্র না থেমে তাদের ওপর নির্বিচারে বেধড়ক লাঠিচার্জ ও অপ্রয়োজনীয় স্থানে মুহুর্মুহু কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
কেন্দ্রীয় শাসকদলকে একহাত নিয়ে কেজরিওয়াল আরও বলেন, “গতকাল যন্তরমন্তরে দেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের কারিগর এই innocent সন্তানেরা সম্পূর্ণ নিরস্ত্র অবস্থায় হাতজোড় করে প্রশাসনের কাছে অনুনয়-বিনয় করছিল, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাদের ওপর যেন সরাসরি জালিয়ানওয়ালাবাগের জেনারেল ডায়ারের মতো পৈশাচিক কায়দায় হামলা চালিয়েছেন। মোদী সরকার যেভাবে দেশের মেধাবী তরুণ প্রজন্মের ওপর বর্বরোচিত লাঠিচার্জ করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক ভিত্তিহীন এফআইআর দায়ের করেছে, তাতে দেশের লক্ষ লক্ষ অভিভাবক গভীরভাবে মর্মাহত ও আতঙ্কিত। বহু অভিভাবক ইতিমধ্যে আমাদের কাছে এসে অভিযোগ জানিয়েছেন যে তাঁদের সন্তানরা নিখোঁজ রয়েছে এবং তারা জানেই না যে পুলিশ প্রশাসন তাদের কোথায় আটকে রেখেছে।” এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে আকুল পিতামাতার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা করে তিনি বলেন, “পুলিশ যতই হুমকি দিক না কেন যে তারা সকলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করবে, এই দেশ কোনো একক ব্যক্তির বা শক্তির নয়। নিখোঁজ বা ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের জরুরি সহায়তার জন্য আমরা একটি ডেডিকেটেড হেল্পলাইন নম্বর (৮৫৮৮৮৩৩৫৪৮) চালু করছি। আম আদমি পার্টির পক্ষ থেকে একটি বিশেষ আইনি সহায়তা দল গঠন করা হয়েছে, যারা দুর্গত পরিবারগুলিকে আইনি ও চিকিৎসাগত সমস্ত রকম সাহায্য প্রদান করবে। কোনো তরুণ বা নাগরিক এই সরকারের কাপুরুষোচিত হুমকিতে কখনো ভীত হবে না।”
আহতদের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কেজরিওয়াল জানান যে তিনি স্বয়ং দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগী ও আহতদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করেছেন এবং পরবর্তীতে সংসদ থানায় গিয়ে আটককৃতদের বিষয়ে কড়া জবাব চেয়েছেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় দাবি করেন যে অবিলম্বে প্রশাসনকে আটককৃত সমস্ত শিশুদের নামের তালিকা প্রকাশ্যে আনতে হবে। তাঁর দেওয়া আপডেট অনুযায়ী, গতকালের এই পুলিশি তাণ্ডবে বহু ছাত্রছাত্রীর পাশাপাশি বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মীও আহত হয়েছিলেন, যাঁদের তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সন্তোষের বিষয় হলো, চিকিৎসাধীন অধিকাংশ শিক্ষার্থী ও পুলিশকর্মীকে ইতিমধ্যেই ছেড়ে দেওয়া হলেও, বর্তমানে হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট বা আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন একটি ছোট মেয়ের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক ও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন তিনি। হাসপাতালে গিয়ে ওই আহত বালিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে তিনি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং দেশবাসীকে ওই শিক্ষার্থীর দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। এদিকে, কেন তিনি নিজে এই বিক্ষোভে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলা বিভিন্ন প্রশ্নেরও স্পষ্ট জবাব দিয়েছেন এই আপ সুপ্রিমো।