২৫০টিরও বেশি ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে কড়া পদক্ষেপ! জন্তর মন্তর কাণ্ডে ইতিমধ্যেই ৫টি এফআইআর দায়ের পুলিশের!

সোমবার দিল্লির যন্তরমন্তরে তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি)-র পূর্বনির্ধারিত ‘পার্লামেন্ট চলো’ মিছিলকে কেন্দ্র করে যে নজিরবিহীন পুলিশি লাঠিচার্জ, ব্যাপক ধস্তাধস্তি ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল, সেই সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলার একটি জরুরি শুনানির আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চের সামনে এক আইনজীবী অত্যন্ত সংবেদনশীল এই পুলিশি সহিংসতার বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে শুনানির জন্য উপস্থাপন করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করেও আদালত আজকের এই দিনটিতে মামলাটিকে জরুরি হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে স্পষ্ট ভাষায় অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আদালতের পক্ষ থেকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় মন্তব্য করা হয়েছে, “দয়া করে এই জটিল বিষয়ে আদালতকে টেনে জড়াবেন না।” তবে জরুরি ভিত্তিতে শুনানি গ্রহণ না করা হলেও, আগামী বুধবার (২২শে জুলাই) এই জনস্বার্থ মামলার নিয়মিত শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত। আদালতের এই নির্দেশ অনুযায়ী, বুধবারের হাইপ্রোফাইল শুনানিতে সিজেপি-র মিছিল চলাকালে পুলিশের ভূমিকা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং আবেদনকারীর পক্ষ থেকে চাওয়া সমস্ত আইনি প্রতিকার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে, দিল্লি পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সোমবারের এই সংসদ অভিযান ও বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে যে নজিরবিহীন সহিংসতা, ঢিল ছোড়াছুড়ি ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল, তার প্রেক্ষিতে এখনও পর্যন্ত মোট পাঁচটি পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। কনট প্লেস, পার্লামেন্ট স্ট্রিট সহ সংলগ্ন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ থানায় এই মামলাগুলি রুজু করা হয়েছে। ঘটনার দিন অশান্তি ছড়ানো এলাকাগুলির সিসিটিভি এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের অন্তত ২৫০টিরও বেশি ভিডিও ফুটেজ অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। এর মাধ্যমে সরাসরি সহিংসতায় যুক্ত উশৃঙ্খল আন্দোলনকারীদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি, অভিযুক্ত দাঙ্গাকারীদের বিরুদ্ধে অতীতে কোনো ধরনের অপরাধমূলক রেকর্ড বা ফৌজদারি মামলা রয়েছে কি না, তাও পুলিশি তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, সোমবার সিজেপি-র সংসদ অভিমুখে এই পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে রাজধানী চত্বরে এক ভয়াবহ ও রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ও নিরাপত্তা রক্ষীরা চরম বলপ্রয়োগ করায় উভয় পক্ষেরই একাধিক বিক্ষোভকারী এবং আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা কর্মীরা গুরুতর আহত হন, যা নিয়ে বর্তমানে জাতীয় রাজনীতি ও আইনি মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।