জার্মান শহরে কবুতর-সঙ্কট! মল-এ ভরে যাচ্ছে রাস্তা, ডিম সরিয়ে ‘কৃত্রিম ডিম’ রাখার এই পদ্ধতিতে কি আদৌ কমবে সংখ্যা?

জার্মানির রাজধানী বার্লিন এখন লাখ লাখ কবুতরের ভারে জর্জরিত। কেউ তাদের ‘উড়ন্ত ইঁদুর’ ডাকেন, আবার কেউ পোষা প্রাণী মনে করেন। কিন্তু শহরে এদের অবাধ বিচরণ এবং প্রতি ১৫ থেকে ৩০ মিনিটে মলত্যাগ করার অভ্যাস জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্রমশ সমস্যার কারণ হচ্ছে। কবুতরের মলে সালমোনেলার মতো ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, যা মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর।
এই পরিস্থিতিতে কবুতরের সংখ্যা সীমিত করার জন্য বার্লিন এক অভিনব ও জটিল পদ্ধতি গ্রহণ করেছে।
লফট বা ‘কবুতরের বাসা’য় নিয়ন্ত্রণ
লাইবনিৎস ইনস্টিটিউটের ড. অলিভার ক্রোনে জানিয়েছেন, গৃহপালিত এই কবুতরদের নিয়ন্ত্রণ করা সহজ নয়। তিনি মনে করেন, প্রকাশ্য স্থানে কাঁটা বা জাল বসানোর চেয়ে ‘কবুতরের জন্য লফট বা বাসা তৈরি’ করাই বেশি উপকারী হতে পারে।
বার্লিনে এই মুহূর্তে এমন তিনটি কবুতরের বাসা চালু আছে, যার একটি স্টেশনের কাছে পর্যবেক্ষণে সহায়তা করেন ডরিন রোটে। এই বাসাগুলি কবুতরদের জন্য শুধু একটি আরামদায়ক জায়গা নয়, এটি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের প্রধান কেন্দ্র:
আরামদায়ক পরিবেশ: কবুতরেরা একসঙ্গে খায় এবং বসবাস করে, যা তাদের রেস্টুরেন্ট বা আবর্জনার চিটচিটে খাবার থেকে দূরে রাখে।
বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ: কবুতর সারা বছর ধরে প্রতি কয়েক সপ্তাহে দুটি করে ডিম দেয়। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে স্বেচ্ছাসেবীরা নিয়মিত আসল ডিমগুলি সরিয়ে সেখানে কৃত্রিম ডিম (নকল ডিম) রেখে দেন। এতে ডিম পাড়ার প্রক্রিয়াটি অব্যাহত থাকে, কিন্তু সংখ্যা বৃদ্ধি পায় না।
‘আমরা এখন কম কবুতর দেখছি’
ডরিন রোটে ১৪ বছর ধরে কবুতরদের শস্য খাইয়ে আসছেন। তাঁর মতে, খাবার না দিলে কবুতরেরা সরাসরি রেস্টুরেন্টে ঢুকে খাবার খুঁজবে, যা আরও অস্বাস্থ্যকর।
কবুতরের এই বিশেষ বাসাগুলির কার্যকারিতা প্রসঙ্গে রোটে বলেন, “আমরা এখন স্টেশনে আগের তুলনায় অনেক কম কবুতর দেখতে পাচ্ছি। এটি খুব স্পষ্ট।” তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে পর্যাপ্ত পরিমাণে লফটের ব্যবস্থা করতে পারলেই সংখ্যা হ্রাসের হার উল্লেখযোগ্য হবে।
বার্লিনের পাশাপাশি জার্মানির আরও অনেক শহর একই চেষ্টা করছে। যদিও কেউই এখনো কবুতরের সংখ্যা কমাতে সম্পূর্ণ সফল হওয়ার মতো নিখুঁত বা ব্যাপক কোনো উপায় খুঁজে পায়নি, তবুও ‘কবুতরের বাসা’ প্রকল্পটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।