জানেন কি, জিলেপি আসলে ভারতীয় নয়? আপনার প্রিয় মিষ্টির অবাক করা ইতিহাস ও ইংরেজি নাম!

জিলেপি—নামটা শুনলেই মন ভরে যায়, কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন এই বিখ্যাত মিষ্টির ইংরেজি নাম কী? জিলেপিকে ইংরেজিতে বলা হয় ‘সুইট প্রেটজেল’ (Sweet Pretzel) বা ‘কয়েলড ফানেল কেক’ (Coiled Funnel Cake), এমনকি কেউ কেউ একে ‘ইন্ডিয়ান সিরাপ-কোটেড ডেজার্ট’ নামেও চেনেন।
জিলেপি তৈরির রহস্য: এই মিষ্টি তৈরি করতে প্রথমেই ময়দার সঙ্গে দই মিশিয়ে একটি ব্যাটার তৈরি করা হয় এবং তা গাঁজানো (ফারমেন্ট) হয়। এরপর এই ব্যাটার ফানেল বা পাইপিং ব্যাগে ভরে গরম তেল বা ঘিয়ে গোল গোল করে পেঁচিয়ে ভাজা হয়। সোনালী ও মুচমুচে হয়ে উঠলে এটিকে ডুবিয়ে দেওয়া হয় গরম চিনির ঘন সিরায়, যা জিলেপিকে দেয় সেই চেনা মিষ্টি ও চকচকে রসালো স্বাদ।
জিলেপির স্বাদ ও জনপ্রিয়তা: বাইরে মুচমুচে আর ভেতরে রসে টইটম্বুর—জিলেপির এই দ্বৈত স্বাদই সব বয়সের মানুষকে আকর্ষণ করে। মুখে দিলেই চিনির সিরা ফেটে পড়ে মিষ্টি স্বাদের বিস্ফোরণ ঘটায়। গরম জিলেপি অনেকেই রাবড়ি, আইসক্রিম বা দইয়ের সঙ্গে খেতে পছন্দ করেন।
উৎপত্তি ও বিশ্বজনীন পরিচিতি: জানলে অবাক হবেন, জিলেপির আসল নাম ছিল ‘জুলাবিয়া’ বা ‘জালাবিয়া’, যা আসলে মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হতো। পরে এই মিষ্টি ভারতে আসে এবং এখানকার সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠে। বর্তমানে এটি শুধু ভারত নয়, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশেও সমান জনপ্রিয়। জিলেপির প্রতি ভালোবাসা জানাতে প্রতি বছর ৩০ জুলাই ‘ওয়ার্ল্ড জিলেপি ডে’ পালিত হয়।
বিখ্যাত জিলেপি হাব: যদিও সমগ্র উত্তর ভারতে জিলেপি তৈরি হয়, তবে মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরের ‘খোয়া জিলেপি’ এবং উত্তরপ্রদেশের মথুরার ‘আলু জিলেপি’ বিশেষভাবে বিখ্যাত। রাজস্থানের ভরতপুর জেলার জিলেপিও তার স্বাদের জন্য পরিচিত।