‘জল চাইলে খরা, পেলে বন্যা!’ বাগলিহার বাঁধের গেট খুলতেই আতঙ্কিত পাকিস্তান

কয়েকদিন আগেও যে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে ‘জল-অস্ত্র’ ব্যবহারের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিল, আজ সেই দেশের কপালেই পড়েছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। খরার আশঙ্কায় কাতর পাকিস্তান এখন চন্দ্রভাগা নদীর অতিরিক্ত জলের তোড়ে বন্যার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। জম্মু ও কাশ্মীরের রামবান জেলায় চন্দ্রভাগা নদীর জলস্তর বিপদসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় বাগলিহার বাঁধের তিনটি স্পিলওয়ে গেট খুলতে বাধ্য হয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে পাকিস্তানের পাঞ্জাবসহ নিম্নাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে বন্যার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডোডা ও কিস্তওয়াড় অঞ্চলে গত কয়েকদিন ধরে অবিরাম বৃষ্টির কারণে চন্দ্রভাগা নদীর জলস্তর দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। বাঁধের জলাধারের জলস্তর ৮৯৩ মিটারের বিপজ্জনক সীমানায় পৌঁছানোয় বাঁধের নিরাপত্তার খাতিরে তিনটি গেট খুলে দেওয়া হয়। এর ফলে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২,০০০ কিউসেক জল নিচের দিকে ছাড়া হয়েছে। ভারত সরকার নিয়মমাফিক পাকিস্তানকে এই জল ছাড়ার বিষয়ে আগাম সতর্কতা প্রদান করেছে, যাতে তারা প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই ঘটনার কয়েকদিন আগেও পাকিস্তানের বিভিন্ন মিডিয়া ও রাজনৈতিক মহল ভারতের বিরুদ্ধে সিন্ধু জল চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিল। পাকিস্তানের দাবি ছিল, ভারত চন্দ্রভাগা নদীর জল কমিয়ে দিয়ে তাদের দেশে খরা তৈরি করতে চাইছে। সেই ‘জল-অস্ত্র’ তত্ত্বে বিশ্বাসী পাকিস্তান আজ যখন বন্যার মুখে দাঁড়িয়ে, তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে হাসাহাসি শুরু হয়েছে। নেটিজেনদের মতে, “জল চাইলে খরা, আর জল পেলে বন্যা—পাকিস্তানের জন্য যেন কিছুই ঠিক নয়!”

বাগলিহার হাইড্রোইলেকট্রিক প্রকল্প চন্দ্রভাগা নদীর ওপর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘রান-অফ-দ্য-রিভার’ প্রকল্প। ভারত সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, গেট খোলার সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ কারিগরি এবং প্রাকৃতিক। বাঁধের কাঠামোগত নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং উজানের এলাকাগুলোকে বড় ধরণের বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতেই এই জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি কোনো রাজনৈতিক পদক্ষেপ নয়, বরং একটি অনিবার্য প্রশাসনিক সতর্কতা।

ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে জরুরি বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শিয়ালকোটসহ নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং শুরু হয়েছে এবং উদ্ধারকারী দলগুলোকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, চন্দ্রভাগা নদীর জলস্তর দুই থেকে তিন মিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে বর্তমানে যে উত্তেজনা চলছে, সেই আবহে এই ঘটনা কূটনৈতিক ও ভৌগোলিক উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত সংবেদনশীল। তবে ভারত প্রমাণ করে দিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক চুক্তি মানার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ভারত সবসময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে।