জলের তলায় বিলিয়ন বিলিয়ন রুপি! নেপালের বিধ্বংসী বন্যায় ১১টি ব্যাংকের ১৭টি শাখা ধ্বংস হতেই সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রকৃতির ভয়াবহ তাণ্ডবে বেহাল দশা নেপালের। ভোটেকোশি নদীর বিধ্বংসী বন্যা এবং হড়পা বানের জেরে রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার ব্যাংকিং পরিকাঠামোয় এক অভূতপূর্ব বিপর্যয় নেমে এসেছে। দেশটির ১১টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মোট ১৭টি শাখা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এই শাখাগুলির অধীনে মোট ৪৩.৫ বিলিয়ন নেপালি রুপি আমানত এবং ২৪.২ বিলিয়ন নেপালি রুপি ঋণ যুক্ত ছিল, যা এখন তীব্র অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বিশাল অংকের অর্থই যে সরাসরি জলে ভেসে গেছে, এমনটা নয়। এটি মূলত ওই শাখাগুলির মোট আমানত ও ঋণের সম্মিলিত পরিসংখ্যান। তবে রাসুয়ার তিমুরে এবং সিয়াফ্রুবেসি এলাকার মতো দুর্গম স্থানে ব্যাংকগুলোর আস্ত শাখা এবং সেগুলির শক্তিশালী ভল্ট বা সিন্দুক জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, বন্যার জলে ভেসে যাওয়া ব্যাংক থেকে সিন্দুক উদ্ধার করে টাকা লুঠের চেষ্টা চলেছে। নদী থেকে ভেসে যাওয়া সিন্দুক ভেঙে টাকা তোলার অভিযোগে ইতিমধ্যেই পুলিশ ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের কাছ থেকে প্রায় ৯২ লক্ষেরও বেশি নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সবথেকে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মানবজীবন। ভয়াবহ এই বন্যায় এখনও পর্যন্ত ৩৫ জন ব্যাংক কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। যাঁদের মধ্যে ২৭ জন বাণিজ্যিক ব্যাংক, ৬ জন মাইক্রোফাইন্যান্স এবং ২ জন ট্যুরিং কর্মী। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে নিখোঁজ কর্মীদের সন্ধান পেতে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের ছবি ও পরিচয় শেয়ার করা হচ্ছে। নেপাল রাষ্ট্র ব্যাংক এবং ‘নেপাল ব্যাঙ্কার্স অ্যাসোসিয়েশন’ যৌথভাবে সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলির কাছে নগদ অর্থ, সোনা-রুপো, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে দেওয়া ঋণ এবং সামগ্রিক সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ বিশদ বিবরণ তলব করেছে। আগামী সোমবারের মধ্যে এই চূড়ান্ত আর্থিক ক্ষতির পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।