নাবালিকা আদিবাসী ছাত্রীকে ধর্ষণ! অভিযুক্ত টোটোচালকের ফাঁসির দাবিতে রণক্ষেত্র বেলপাহাড়ি

এক নাবালিকা আদিবাসী স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে তীব্র উত্তপ্ত হয়ে উঠল ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি। অভিযুক্ত টোটোচালকের দ্রুত ফাঁসি ও কঠোরতম শাস্তির দাবিতে রবিবার সকাল থেকেই ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া ৯ নম্বর রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন। বিক্ষুব্ধ জনতার টায়ার জ্বালানো এবং স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
ঠিক কী ঘটেছিল?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রবিবার সকালে বাড়ি থেকে টোটোয় চড়ে টিউশনি পড়তে যাচ্ছিল ওই স্কুলছাত্রী। অভিযোগ, সেই সুযোগেই চালক টোটোটিকে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে নাবালিকাকে ধর্ষণ করে। এমনকি কাউকে এই বিষয়ে মুখ খুললে প্রাণে মেরে ফেলার ভয়ও দেখানো হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় ভয় পেয়ে যাওয়ায় প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখলেও, পরদিন টিউশন ও স্কুলে না যাওয়ায় মায়ের জেরার মুখে কেঁদে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে নির্যাতিতা।
পরিবারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে বেলপাহাড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরই তৎপর হয় পুলিশ এবং অভিযুক্ত টোটোচালককে দ্রুত গ্রেফতার করে। বর্তমানে সে জেল হেফাজতে রয়েছে। তবে অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হলেও এলাকাবাসীর ক্ষোভ বিন্দুমাত্র কমেনি।
রণক্ষেত্র বেলপাহাড়ি ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
রবিবারেও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবিতে রাস্তায় নামে জনতা। রাজ্য সড়ক অবরোধের ফলে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। উন্মত্ত জনতা অভিযুক্তের বাড়ি ও দোকান ভাঙচুরও করেছে বলে জানা গেছে। নির্যাতিতাকে ইতিমধ্যেই মেদিনীপুরের একটি হোমে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার স্বার্থে পাঠানো হয়েছে।
এই নৃশংস ঘটনা প্রসঙ্গে বিনপুরের বিজেপি বিধায়ক প্রণত টুডু পুলিশি তদন্তে কোনো গাফিলতি রাখা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, জেলা তৃণমূল নেতা সুমন সাহু ঘটনাটিকে অত্যন্ত লজ্জাজনক ও নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। আদিবাসী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও দ্রুত ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে বিচার প্রক্রিয়া শেষ করে সর্বোচ্চ শাস্তির জোরালো দাবি তুলেছে।