এসবিআইয়ের বড় মাস্টারস্ট্রোক! ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের আইপিওতে কোটি কোটি টাকার শেয়ার বিক্রির মেগা পরিকল্পনা

রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্র থেকে শুরু করে দেশের আর্থিক বাজারে বড়সড় পালাবদলের ইঙ্গিত। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (এনএসই)-এর প্রস্তাবিত মেগা আইপিও (IPO)-র মাধ্যমে নিজেদের অংশীদারিত্ব কমানোর বড় পরিকল্পনা হাতে নিল স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI) এবং তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসবিআই ক্যাপিটাল মার্কেটস। সব মিলিয়ে এনএসই-তে থাকা তাদের প্রায় ১ শতাংশ শেয়ার বাজারে বিক্রির প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে দেশের শীর্ষ এই ব্যাঙ্কিং গোষ্ঠী।
ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান সিএস শেঠি জানিয়েছেন, এই প্রস্তাবিত ৩০,০০০ কোটি টাকার আইপিও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসবিআই নিজে প্রায় ০.৬৫ শতাংশ এবং এসবিআই ক্যাপিটাল মার্কেটস ০.৩৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করতে পারে। বর্তমানে এনএসই-তে এসবিআইয়ের ৩.২৩ শতাংশ এবং এসবিআই ক্যাপিটাল মার্কেটসের ৪.৩৩ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে। তবে অন্যান্য শেয়ারহোল্ডাররা যুক্ত হলে এই বিক্রির পরিমাণ ১ শতাংশের আশপাশে থাকতে পারে। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বার্তা, আপাতত অন্য কোনো সহযোগী সংস্থায় তাদের শেয়ার বিক্রির কোনো পরিকল্পনা নেই।
শেয়ার বিক্রির খবরের পাশাপাশি এসবিআইয়ের গৃহঋণ বা হোম লোন ব্যবসা নিয়েও বড় আশার কথা শুনিয়েছেন ব্যাঙ্ককর্তারা। চলতি অর্থবর্ষের বর্তমান ত্রৈমাসিকেই এসবিআইয়ের হোম লোন পোর্টফোলিও ১০ লক্ষ কোটি টাকার ঐতিহাসিক মাইলফলক অতিক্রম করবে বলে জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে বিগত অর্থবর্ষেই ব্যাঙ্কটি ৯ লক্ষ কোটির গণ্ডি পার করেছিল। বর্তমানে এই খাতে এসবিআইয়ের বাজার অংশীদারিত্ব প্রায় ২৮ শতাংশ। দেশজুড়ে ৪৬০টিরও বেশি ডেডিকেটেড হোম লোন প্রসেসিং সেন্টারের মাধ্যমে গ্রাহকদের পরিষেবা দিচ্ছে ব্যাঙ্কটি। স্বচ্ছ মূল্য নির্ধারণ এবং কড়া নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমেই গ্রাহকদের এই আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে ম্যানেজমেন্ট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গৃহঋণকে স্রেফ একটি সাধারণ ব্যাঙ্কিং প্রোডাক্ট হিসেবে দেখা ভুল। কারণ এর সঙ্গে বাণিজ্যিক ও আবাসিক রিয়েল এস্টেট খাতের প্রায় ২০০টিরও বেশি সহযোগী শিল্প সরাসরি যুক্ত থাকে। তাই দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে গতিশীল রাখতে এই খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষের কাছে সহজে লোন পৌঁছে দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও মজবুত করাই এখন স্টেট ব্যাঙ্কের মূল লক্ষ্য।