গর্ভে ৭ সপ্তাহের সন্তান! সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার মনজিৎকে গাছে বেঁধে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড়

সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার মনজিৎ কৌর হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে একের পর এক চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক তথ্য সামনে আসছে। জানা গিয়েছে, মৃত্যুর সময় তিনি ৭ সপ্তাহের গর্ভবতী ছিলেন। ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতনের পর তাঁকে গাছে বেঁধে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় শুধু চণ্ডীগড়েই নয়, গোটা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

কী ঘটেছিল সেদিন?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩ জুলাই পরিচিত দুই যুবকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন মনজিৎ। অভিযোগ, সেখান থেকেই তাঁকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে মোরিন্ডা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাঁর উপর অকথ্য অত্যাচার চালানো হয়। এরপর দুষ্কৃতীরা তাঁকে একটি গাছে বেঁধে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

স্থানীয় মানুষজন তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় গত ৯ জুলাই তাঁকে চণ্ডীগড়ের পিজিআইএমইআর (PGIMER)-এ স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর গত ২৬ অগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশি গাফিলতির অভিযোগ ও তদন্ত
পরিবারের পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ তুলে বলা হয়েছে, গত ৫ অগস্ট জ্ঞান ফেরার পর মনজিৎ পুলিশকে জবানদান দিতে চেয়েছিলেন। থানায় জানানো সত্ত্বেও পুলিশ সময়মতো তাঁর বয়ান রেকর্ড করেনি। যদিও পুলিশের তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানানো হয়েছে যে, তারা ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করছে এবং পরিবারের পাশে রয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে মনজিৎ ডিভোর্সি ছিলেন এবং তাঁর ৭ বছরের একটি সন্তান রয়েছে। অভিযুক্তদের একজনের সঙ্গে তাঁর লিভ-ইন সম্পর্ক ছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোনো দ্বন্দ্বের জেরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বর্তমানে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে অভিযুক্তদের ধরতে চিরুনি তল্লাশি চলছে।