কাঁধে করে ছুঁড়লেই নিমেষে খতম শত্রু দেশের ট্যাঙ্ক! আমেরিকা থেকে প্রায় ২৯২ কোটির বিধ্বংসী অস্ত্র কিনছে ভারত

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ শক্তিশালী হতে চলেছে ভারতের সামরিক বাহিনী। সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও সুদৃঢ় করতে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত। প্রায় ২৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে ভারতীয় সেনার জন্য প্রায় ৬০টি অত্যাধুনিক ‘জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল’ (Javelin Anti-Tank Guided Missile) কেনা হচ্ছে। সূত্রের খবর, অপারেশন সিঁদুর-এর পর ভারতের আর্মার-এর ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবর্ষের শেষের দিকেই এই মারণাস্ত্রগুলি হাতে পাবে ভারতীয় সেনা।
জ্যাভলিন মিসাইল কী এবং কেন এটি এত বিশেষ?
এটি মূলত একটি অত্যন্ত আধুনিক, পোর্টেবল বা কাঁধে করে বহনযোগ্য অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল, যার মূল কাজ হলো শত্রু পক্ষের শক্তিশালী ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া গাড়িগুলিকে নিমেষে গুঁড়িয়ে দেওয়া। এই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রধান বিশেষত্বগুলি হলো—
ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট (Fire and Forget): এই মিসাইলটি মূলত ‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট’ প্রযুক্তিতে কাজ করে। অর্থাৎ, একবার লক্ষ্যবস্তুতে লক করার পর মিসাইলটি নিজে থেকেই টার্গেটে গিয়ে আঘাত হানে। এটি সাধারণত ট্যাঙ্কের সবচেয়ে দুর্বল অংশে আক্রমণ করে।
দিন-রাত সমান কার্যকারী: দিনের আলো ছাড়াও ইনফ্রারেড প্রযুক্তির সাহায্যে রাতের অন্ধকারেই এই মিসাইল সমানভাবে নিখুঁত নিশানায় কাজ করতে পারে।
সহজে বহনযোগ্য: ওজনে অত্যন্ত হালকা হওয়ায় (প্রায় ২২.৭ কেজি) সেনাবাহিনীর জওয়ানরা এটি খুব সহজেই কাঁধে করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যেতে পারেন।
দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন: লক্ষ্যবস্তুতে মিসাইল তাক করার পর অপারেটর দ্রুত নিজের অবস্থান বদল করতে পারেন, ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই পরবর্তী টার্গেটে আক্রমণ চালানো সম্ভব হয়।
ডাইরেক্ট অ্যাটাক মোড: এর মধ্যে বিশেষ ডাইরেক্ট অ্যাটাক মোড থাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী সরাসরি শত্রুর ওপর আঘাত হানা যায়।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় সেনার অস্ত্রভাণ্ডারে জ্যাভলিন মিসাইলের মতো অস্ত্র যুক্ত হওয়ায় সীমান্ত এলাকায় শত্রু পক্ষের ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া গাড়ির যেকোনো আক্রমণের মোকাবিলা করার ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে গেল। বিশেষ করে দুর্গম সীমান্ত এলাকায় কাঁধে বহনযোগ্য এই মিসাইল ভারতীয় সেনাকে এক কৌশলগত ও দুর্দান্ত সুবিধা দেবে।