‘জলদি পালাও, নাহলে ব্যবস্থা নেবে সরকার’, মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারিতে হাকিমপুর সীমান্তে উপচে পড়া ভিড়

রাজ্যে নতুন সরকারের ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই বদলে গেল উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর সীমান্তের ছবি। অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের রাখার জন্য প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হতেই মঙ্গলবার সকাল থেকে হাকিমপুর চেকপোস্টের সামনে দেখা গেল এক অন্যরকম দৃশ্য। ট্রলি ব্যাগ, বস্তা, আর গৃহস্থালির সামগ্রী নিয়ে সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন বহু মানুষ, যাঁদের অধিকাংশই অবৈধভাবে ভারতে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিক।

সীমান্তের এই ‘স্বেচ্ছায়’ ফিরে যাওয়ার হিড়িককে ঘিরে প্রশাসনিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ অনুযায়ী, অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাঁদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এদিন নদিয়ার প্রশাসনিক বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “আমাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের ভাগ ওদের কেন দেব? জলদি পালাও, নাহলে সরকার যা করার করবে।” মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, অবৈধ বাংলাদেশিদের জেলে রেখে খাওয়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই। তাদের সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দিয়ে প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হাকিমপুর সীমান্তে জড়ো হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। অনেকেরই দাবি, তাঁরা ভয়ে এবং অনিশ্চয়তার কারণেই স্বদেশে ফিরে যেতে চাইছেন। এদের মধ্যে কেউ কয়েক বছর ধরে কলকাতায় পরিচারিকার কাজ করতেন, কেউ বা রঙের মিস্ত্রি বা রাজমিস্ত্রি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমান প্রশাসনিক কঠোর অবস্থানের পর তাঁরা আর ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যারা ফিরতে চাইছেন, তাদের বায়োমেট্রিক ও নথিপত্র যাচাইয়ের পর বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ)-এর সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের দেশে পাঠানোর কাজ চলছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যের নতুন সরকারের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ (Detect, Delete and Deport) বা ‘৩ডি’ নীতিই এই পরিস্থিতির মূল কারণ। মালদহ ও মুর্শিদাবাদে ইতিমধ্যে দুটি হোল্ডিং সেন্টার চালু হয়ে গেছে। প্রশাসনের এই কড়া বার্তায় স্বাভাবিকভাবেই সীমান্তে অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা এই মানুষের ভিড় আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy