জরুরি অবস্থার ৫১ বছর, সংবিধানের ‘কালো অধ্যায়’ মনে করিয়ে কী বার্তা দিলেন মোদী?

১৯৭৫ সালের ২৫ জুন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ঘোষিত জরুরি অবস্থার ৫১তম বার্ষিকীতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই দিনটিকে তিনি ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে কালো অধ্যায়’ এবং ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
ইনস্টাগ্রামে একটি বিশেষ পোস্টে মোদী লেখেন, “জরুরি অবস্থা যারা জারি করেছিল, তাদের কপালে সেই পাপের কলঙ্ক চিরকাল রয়ে যাবে।” তিনি সেই সময়ে হওয়া অমানবিক অত্যাচারের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, জর্জ ফার্নান্দেজকে শিকলবন্দি করা থেকে শুরু করে মিডিয়ার কণ্ঠরোধ, বিচার ব্যবস্থাকে কব্জা করা এবং দেশজুড়ে হাজার হাজার মানুষকে কারাবন্দি করা—সবই ছিল নিছক নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার মরিয়া প্রচেষ্টা। পুরো হিন্দুস্থানকে কার্যত একটি বিশাল জেলখানায় পরিণত করা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর মতে, সেই দুঃসময়ে হাজারো অত্যাচার সহ্য করেও ভারতীয় জনগণের গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা টলেনি। দেশের মানুষ জাতি-ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে ভোটের মাধ্যমে পুনরায় গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। মোদীর সাফ বার্তা, “যাঁরা সংবিধানকে পদদলিত করার পাপ করেছিলেন, সেই ইতিহাস ভুলে যাওয়ার নয়। বরং বারবার এই কালো দাগটিকে স্মরণ করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ দেশের গণতন্ত্র নিয়ে এমন দুঃসাহস দেখানোর কথা ভাবতে না পারে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, কাউকে অপমান করা তাঁর লক্ষ্য নয়, বরং গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ হিসেবে সেই ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন।