জমি দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের থেকে লুট ২ হাজার কোটি টাকা! বিশাল অঙ্কের নগদ ও বিলাসবহুল গাড়ি বাজোপ্ত করল ED

প্রায় ২,০০০ কোটি টাকার বহুরাজ্যব্যাপী (Multi-state) চিটফাণ্ড কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে বড়সড় সাফল্য পেল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। মঙ্গলবার ইডি আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, এক বিশাল তল্লাশি অভিযানে মোট ১৮২টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ১ কোটি টাকারও বেশি নগদ অর্থ এবং ছটি হাই-এন্ড বিলাসবহুল গাড়ি বাজোপ্ত করা হয়েছে।
ইডির অভিযান ও বাজোপ্ত সামগ্রী:
অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (PMLA, 2002)-এর অধীনে গত ৫ আগস্ট ইডি-র ভুবনেশ্বর জোনাল অফিস বিশাখাপত্তনম এবং হায়দ্রাবাদের মোট পাঁচটি জায়গায় একসঙ্গে অভিযান চালায়। ‘ওয়েলফেয়ার বিল্ডিংস অ্যান্ড এস্টেটস প্রাইভেট লিমিটেড’ (WBEPL) নামক কোম্পানি এবং তার ডিরেক্টরদের ঠিকানায় এই হানা দেওয়া হয়।
এই অভিযানে যাদের নাম উঠে এসেছে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন বিধায়ক মল্লা বিজয়া প্রসাদ (Malla Vilaya Prasad) এবং বরাহ রামকৃষ্ণা সত্য শ্রীনিবাস রাও আল্লা (Varaha Ramakrishna Satya Sinivasa Rao Alla)-সহ অন্যান্যরা। তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে:
১ কোটি ১ লক্ষ টাকা নগদ ভারতীয় মুদ্রা।
WBEPL ও তার ডিরেক্টরদের সম্পত্তি সংক্রান্ত মূল দলিলপত্র এবং একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস।
কোম্পানির ও ডিরেক্টরদের নামে থাকা ছটি বিলাসবহুল গাড়ি।
সংস্থার ১৮২টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
কীভাবে চলত এই প্রতারণা চক্র?
ওড়িশা পুলিশের ইকোনমিক অফেন্সেস উইং (EOW), সিবিআই (CBI) এবং ঝাড়খণ্ডের অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো (ACB)-র একাধিক এফআইআর এবং চার্জশিটের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু করে ইডি।
তদন্তে জানা গেছে যে, WBEPL-এর ডিরেক্টর ও ম্যানেজিং ডিরেক্টররা ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং অন্ধ্রপ্রদেশ সহ একাধিক রাজ্যের হাজার হাজার সাধারণ বিনিয়োগকারীর থেকে নানা স্কিমের নামে ২,০০০ কোটি টাকারও বেশি অবৈধভাবে সংগ্রহ করেছিলেন। বিশাখাপত্তনমে জমি পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে এই টাকা তোলা হয়।
পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজ্যের শাখা অফিসগুলি বন্ধ করে দিয়ে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়। সংগৃহীত অর্থ সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যবহার না করে ডিরেক্টররা নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থে ও অন্য খাতে খরচ করেন। এমনকি আমানত লুকানোর জন্য আর্থিক বিবরণী কারচুপি এবং বেআইনিভাবে জমি কেনাবেচার মাধ্যমে আইনি নজরদারি এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।