TCS-এর সেই ‘লেডি ডন’ গ্রেপ্তার! AIMIM কাউন্সিলরের গোপন ডেরায় কি চলছিল ধর্মান্তরের ছক?

নাসিক টিসিএস (TCS) ইউনিটে জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং নারী কর্মীদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত নিদা খানকে অবশেষে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। তবে তাঁর গ্রেপ্তারের চেয়েও বড় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে তাঁর আত্মগোপন করার স্থানটি নিয়ে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, নিদা খান গত ১০ দিন ধরে ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের এআইএমআইএম (AIMIM) কাউন্সিলর মতিন প্যাটেলের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এই তথ্য সামনে আসতেই মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) গভীর রাতে নাসিক ক্রাইম ব্রাঞ্চ এবং ছত্রপতি সম্ভাজিনগর পুলিশের একটি যৌথ দল নারেগাঁও এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। দুই মহিলা পুলিশ আধিকারিকের উপস্থিতিতে নিদা খানকে পাকড়াও করা হয়। গত ২৫ মার্চ থেকে নিদা খান পলাতক ছিলেন। পুলিশকে ফাঁকি দিতে তিনি বারবার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন এবং এর মাঝেই আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে আদালত তাঁর অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে সেই আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেয়।

তদন্তকারীদের দাবি, টিসিএস-এর এই ধর্মান্তর চক্রের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হলেন এই নিদা খান। তিনি হিন্দু নারী কর্মীদের ওপর ইসলামিক রীতিনীতি চাপিয়ে দেওয়া, নির্দিষ্ট পোশাক পরতে বাধ্য করা এবং নামাজ পড়ার জন্য চাপ দিতেন বলে অভিযোগ। এমনকি রাজি না হলে তাঁদের ওপর যৌন ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো বলেও এফআইআর-এ উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ এই মামলায় ইতিপূর্বেই ছয়জন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছিল, তবে নিদাকে গ্রেপ্তারের ফলে এই চক্রের আসল শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা জানা সম্ভব হবে।

বর্তমানে নিদা খানকে নাসিক রোড থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, কাউন্সিলর মতিন প্যাটেলকে ইতিমধ্যেই নোটিশ জারি করেছে পুলিশ। নিদা খান কীভাবে এবং কার মাধ্যমে কাউন্সিলরের বাড়িতে পৌঁছালেন এবং মতিন প্যাটেল কি এই চক্রের বিষয়ে আগে থেকেই অবগত ছিলেন—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কাউন্সিলরের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে এবং তাঁর কল ডিটেইলস (CDR) রেকর্ড পরীক্ষার মাধ্যমে আরও বড় কোনো ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস হওয়ার সম্ভাবনা দেখছে পুলিশ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy