জগদ্দলের ত্রাস খোকন অবশেষে খাঁচায়! কোমরে দড়ি বেঁধে আদালতে নিয়ে গেল পুলিশ

পঞ্চায়েত নির্বাচনের সেই ‘রক্তক্ষয়ী’ অধ্যায়ের কি এবার অবসান?

নিজস্ব প্রতিবেদন, জগদ্দল: দীর্ঘ লড়াই, আতঙ্ক এবং অভিযোগের পাহাড় পেরিয়ে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল জগদ্দলের কুখ্যাত দাপুটে নেতা খোকন মণ্ডল। রবিবার গভীর রাতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। সোমবার সকালে কোমরে দড়ি পরিয়ে ধৃতকে ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। এই গ্রেফতারি ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক মহলে বড়সড় আলোড়ন ফেলেছে।

কেন এই গ্রেফতারি? ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, ওই সময় ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে বিরোধী দলগুলোর ওপর চলে অকথ্য সন্ত্রাস। এই আবহে জগদ্দলের পানপুর এলাকার বাসিন্দা শুকদেব বিশ্বাস বিজেপির হয়ে জেলা পরিষদ আসনে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেন। অভিযোগ, সেই সময় থেকেই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা দীপক লাহিড়ী ওরফে ‘বড় ভাই’-এর ঘনিষ্ঠ মহলের পক্ষ থেকে তাঁকে প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের জন্য লাগাতার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

মর্মান্তিক পরিণতি ও বিচারপ্রার্থী স্ত্রী: সমস্ত ভয়কে তুচ্ছ করে শুকদেব বিশ্বাস নিজের অবস্থানে অটল থাকেন। নির্বাচনে পরাজয়ের পরেও রাজনৈতিক পরিচয় থেকে সরেননি তিনি। এরপরই ২০২৪ সালের ২৬ এপ্রিল রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় শুকদেবের। পরিবারের দাবি, এটি দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত খুন।

স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই বিচারের দাবিতে সরব হন স্ত্রী শুক্লা বিশ্বাস। তাঁর অভিযোগ, স্বামীর হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে উলটে তাঁকে বারবার হেনস্তা, অশালীন মন্তব্য এবং শারীরিক নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছে। রাজনৈতিক পালাবদলের হাওয়া বইলেও, দীর্ঘদিন সুবিচার না পাওয়ার আক্ষেপ ছিল শুক্লাদেবীর গলায়। অবশেষে খোকন মণ্ডলের গ্রেফতারিতে কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে মৃতের পরিবার।

পুলিশি হেফাজতে থাকা খোকনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর এই খুনের নেপথ্যে আরও কারা জড়িত, তা স্পষ্ট হবে বলে আশা করছে স্থানীয় মানুষ। ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে সন্ত্রাস দমনে এটি পুলিশের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy