কর্মজীবনে যিনি ৩০ জন কুখ্যাত অপরাধীকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন, অবসরের পর সেই প্রাক্তন পুলিশ পরিদর্শক রাম লক্ষ্মণ যাদব আজ নিজেই বিচারপ্রার্থী। উত্তর প্রদেশের জৌনপুরে নিজের বাড়িতে চুরির ঘটনায় এফআইআর দায়ের করতে গিয়ে তিনি যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন, তা রাজ্যের পুলিশের কার্যপদ্ধতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত: কয়েক বছর আগে অবসর নেওয়া রাম লক্ষ্মণ যাদব জৌনপুর শহরের কোতোয়ালি এলাকায় থাকেন। গত ১১ জুন তাঁর অনুপস্থিতিতে বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, লক্ষাধিক টাকার গয়না ও নগদ টাকা চুরি হয়েছে। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পরিবার বাড়িতে ফিরে পুলিশের দ্বারস্থ হয়। কিন্তু এখানেই বাঁধে বিপত্তি।
পুলিশের আজব শর্ত: ভুক্তভোগীর অভিযোগ, থানায় যাওয়ার পর পুলিশ তাঁদের এফআইআর-এ ‘গয়না চুরির’ কথা উল্লেখ করতে বারণ করে। থানার আধিকারিকদের দাবি, গয়না চুরির সপক্ষে প্রমাণ বা কেনাকাটার বিল জমা দিতে হবে। এমনকি, সাদা কাগজের বদলে স্ট্যাম্প পেপারে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ। অথচ, বিয়েতে প্রাপ্ত উপহার বা গয়নার বিল সব সময় যে সংগ্রহে রাখা সম্ভব নয়, তা বুঝতে রাজি নয় স্থানীয় পুলিশ।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দোরগোড়ায় অসহায় প্রাক্তন অফিসার: থানা থেকে নিরাশ হয়ে ভুক্তভোগী বাবা ও ছেলে জৌনপুরের পুলিশ সুপার (এসপি)-এর কার্যালয়ে যান। কিন্তু সেখানেও তাঁদের অভিযোগ সংশোধন করতে বলা হয়। অবসরের পর নিজের বিভাগের এই আচরণে চরম হতাশ প্রাক্তন এই পুলিশ অফিসার। ক্ষুব্ধ রাম লক্ষ্মণ যাদব আক্ষেপ করে বলেন, যিনি কর্মজীবনে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আপসহীন ছিলেন, আজ তাঁর নিজের বিপদে পুলিশি সহায়তা পেতে কেন এই হয়রানি?
প্রশাসনের সাফাই: এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার গোল্ডি গুপ্তা জানান, অভিযোগকারীকে গয়নার প্রমাণপত্রসহ লিখিত অভিযোগ জমা দিতে বলা হয়েছে। পুলিশের স্ট্যাম্প পেপারে লিখিত অভিযোগের প্রয়োজন নেই, সাদা কাগজে অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দাবি করেন তিনি।
একজন প্রাক্তন পুলিশ অফিসারের সাথে পুলিশের এই ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতা’ জনমনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। জৌনপুর পুলিশের এই আচরণ আইন-শৃঙ্খলার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিচ্ছে।





