পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক ও নাটকীয় মোড়। তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-তে যোগ দিলেন। সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি লোকসভার স্পিকার ওম বিরলার সঙ্গে দেখা করে তাঁদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে চিঠি জমা দিয়েছেন। সোমবার এনসিপিআই-এর পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে দলবদল ও নতুন সাংগঠনিক পরিবর্তনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
সাংগঠনিক পটপরিবর্তন: দলীয় সূত্র অনুযায়ী, ২০২২ সালে হাওড়ার শাঁকরাইলে শিউলি কুন্ডু এনসিপিআই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। গত ২৮ মে শিউলি কুন্ডু ব্যক্তিগত কারণে সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করার পর, ৩১ মে দলের রাজনৈতিক বিষয়ক কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে এনসিপিআই-এর নতুন সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করে। দীর্ঘ আইনি ও সংসদীয় জটিলতা এড়াতেই তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী এই পথ বেছে নিয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
কুণাল ঘোষের নিশানায় বিদ্রোহীরা: এই দলবদল ও একত্রীকরণকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে ও বাইরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূল বিধায়ক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বিদ্রোহী সাংসদদের তীব্র কটাক্ষ করেছেন। তিনি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন:
গোপন আঁতাত: কুণাল ঘোষের অভিযোগ, বিদ্রোহী সাংসদরা বিরোধী দলের নেতাদের বাড়িতে গিয়ে বৈঠক করেছেন এবং এমন এক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছেন, যাদের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া: তিনি দাবি করেছেন, তৃতীয় এই দলে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথাগত কোনো ছবি তোলা, পতাকা গ্রহণ বা প্রকাশ্যে করমর্দনের মতো ঘটনা দেখা যায়নি, যা সম্পূর্ণ বিষয়টিকেই রহস্যময় করে তুলেছে।
সাংসদদের ভবিষ্যৎ: লোকসভায় তৃণমূলের ‘হুইপ’ এড়িয়ে আলাদাভাবে বসার দাবি জানিয়েছেন বিদ্রোহী সাংসদরা। এনসিপিআই এখন নির্বাচন কমিশনে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার পর, সংসদের আগামী অধিবেশনে স্পিকার এই সাংসদদের পৃথক ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি দেন কি না, সেটাই এখন দেখার।
এই দলবদল রাজ্যের রাজনীতিতে কতখানি প্রভাব ফেলবে এবং এনডিএ-র সঙ্গে তাঁদের সমন্বয়ের পথ কতটা মসৃণ হবে, তা নিয়ে এখন সরগরম দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দ থেকে বাংলার রাজপথ।





