বর্তমান যুগটা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই-এর। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের একটা বড় অংশ এখন নিয়ন্ত্রণ করছে এই প্রযুক্তি। বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে এবার ছোটদের একদম স্কুলস্তর থেকেই এআই শেখানোর বিশাল প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত সরকার। আগামী প্রজন্ম যাতে শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী না হয়ে প্রযুক্তির কারিগর হয়ে উঠতে পারে, সেই ভিত গড়াই এখন কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য।
কী এই ‘School Yuva AI for All’ প্রকল্প?
ইলেকট্রনিক্স এবং ইনফরমেশন টেকনোলজি মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই বিশেষ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর বিশেষত্ব হলো:
ব্যবহারিক শিক্ষা: শুধু বইয়ের পাতায় নয়, ছোট ছোট প্র্যাকটিক্যাল প্রজেক্টের মাধ্যমে এআই শিখবে পড়ুয়ারা।
ইন্টারেক্টিভ সেশন: হাতে-কলমে মেশিন লার্নিং ও ডেটা অ্যানালিসিস শেখার সুযোগ।
সুরক্ষা পাঠ: ডিজিটাল সিকিউরিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও থাকবে এই কোর্সে।
কেন শুধু কোডিং যথেষ্ট নয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাচ্চাদের কেবল কোডিং শিখিয়ে বর্তমানে আর বড় কোনও লাভ নেই। বরং একটি মেশিন কীভাবে কাজ করে, তার পেছনের বিজ্ঞান বা ‘লজিক’ বোঝা বেশি জরুরি। সরকার চাইছে ভারতের প্রতিটি শিশু ছোট থেকেই ‘টেক স্যাভি’ হয়ে উঠুক এবং ভবিষ্যতের গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রির জন্য নিজেদের তৈরি রাখুক।
স্কুলে এআই শেখা কেন বাধ্যতামূলক হচ্ছে?
এখন প্রায় প্রতিটি পেশায় এআই-এর ব্যবহার বাড়ছে। যারা এই প্রযুক্তির সাথে পরিচিত নয়, ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে তাঁদের পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। ইতিমধ্যেই এআই-এর দাপটে বিশ্বজুড়ে বহু মানুষের চাকরি চলে গিয়েছে। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে:
ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা: ছোট থেকেই এআই-কে ‘টুল’ হিসেবে ব্যবহার করতে শিখলে তাদের চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকবে না।
ইন্ডাস্ট্রি রেডি জেনারেশন: পড়াশোনা শেষ করে সরাসরি কর্মক্ষেত্রে যোগ দেওয়ার মতো দক্ষতা তৈরি হবে স্কুল থেকেই।
সরকারের এই পদক্ষেপ আসলে ডিজিটাল দুনিয়ায় ভারতের আধিপত্য বজায় রাখার এক সুদূরপ্রসারী কৌশল। আপনার সন্তান কি এই নতুন বিপ্লবের জন্য তৈরি? এখনই খোঁজ নিন সরকারের এই নতুন কোর্সের।





