ছাত্র বিক্ষোভের অন্তরালে খোদ রাজধানীতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ! পাঁচ পুলিশ অফিসার সহ গুরুতর আহত দুই এসিপি, ছিনতাইয়ের ঘটনায় তোলপাড়!

রাজধানী দিল্লির কনট প্লেস এবং সংলগ্ন যন্তর মন্তর এলাকার নিরাপত্তা বলয় ভেঙে এক চরম বিশৃঙ্খল ও হিংসাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বিভিন্ন দাবিতে চলা ছাত্র বিক্ষোভের মধ্যেই আন্দোলন হিংসাত্মক রূপ নেওয়ায় পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে। এই অতর্কিত ও হিংসাত্মক সংঘর্ষে দুই এসিপি (ACP) এবং দুই ইন্সপেক্টর সহ মোট পাঁচজন শীর্ষস্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। আহত পুলিশ অফিসারদের মধ্যে গুরুতর জখম এসিপি বিবেক ভগতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তৎক্ষণাৎ দিল্লির এইমস (AIIMS) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই নজিরবিহীন ঘটনায় গোটা পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারদের ওপর চলা এই হামলার তীব্রতা কতটা ভয়াবহ ছিল, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে আহত ইন্সপেক্টর নন্দ কিশোরের বিস্ফোরক অভিযোগে। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে উন্মত্ত জনতা তাঁকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করে এবং শারীরিক নির্যাতন চালায়। শুধু তাই নয়, চরম বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে হামলাকারীরা তাঁর গলার মূল্যবান সোনার চেইন এবং টাকাভর্তি পার্স পর্যন্ত বলপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। খোদ আইনরক্ষকদের ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিকে প্রকট করে তুলেছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে গত ২০শে জুলাই সংঘটিত এই হিংসাত্মক ঘটনার একটি চাঞ্চল্যকর সিসিটিভি ফুটেজ জনসমক্ষে আনা হয়েছে। ওই সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে, কীভাবে একদল বিক্ষুদ্ধ মানুষ পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ইট-পাথর ছুড়ছে এবং রাস্তায় যত্রতত্র ব্যাপক ভাঙচুর চালাচ্ছে। এই ভিডিও সামনে আসার পর পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি করা হয়েছে যে, সাধারণ ও শান্তিপূর্ণ শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদের আড়ালে কিছু কুখ্যাত সমাজবিরোধী উপাদান ও বহিরাগত দুষ্কৃতী সুপরিকল্পিতভাবে ঢুকে পড়েছিল। এরাই মূলত পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং পুরো পরিস্থিতিকে হিংসাত্মক করে তোলে।
অন্যদিকে, এই সহিংসতার পুরো দায় সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে উল্টো পুলিশ ও শাসক দলের ঘাড়ে দোষ চাপিয়েছে তেলাপোকা জনতা পার্টি বা সিজেপি (CJP)। সিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি করা হয়েছে যে, এই অপ্রীতিকর ও পূর্বপরিকল্পিত সহিংসতার জন্য মূলত ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) সমর্থক ও ক্যাডাররাই সরাসরি দায়ী। তাদের মতে, শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনকে বানচাল করতে এবং সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির জোরালো আওয়াজকে স্তব্ধ করতে সুকৌশলে এই অন্তর্ঘাত চালানো হয়েছে। একদিকে পুলিশ প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলির পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রাজধানী দিল্লির রাজনৈতিক বায়ুমণ্ডল এখন চরম উত্তপ্ত ও থমথমে হয়ে রয়েছে।