ছাত্র আন্দোলনের মহা জয়! মোদী সরকারের ওপর প্রবল চাপে শেষমেশ ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান

দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ তরুণ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অভিযোগ এবং লাগাতার প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা ঐতিহাসিক ছাত্র আন্দোলনের মুখে অবশেষে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হলো কেন্দ্র সরকার। দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা দাবানলসুলভ আন্দোলনের তীব্র চাপে অবশেষে পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। ছাত্র সমাজের সুদৃঢ় ঐক্য এবং লাগাতার প্রতিবাদের জেরে এই প্রথম কোনো বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপে বড়সড় ধাক্কা খেল শাসকশিবির।
গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দিল্লি থেকে শুরু করে পাটনা, ছাপরা এবং গুজরাতের সুরাত পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই আন্দোলন আছড়ে পড়েছিল। পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল স্বচ্ছতা আনার এক দফা দাবিতে রাজপথ কাঁপিয়েছিলেন দেশের জেন-জি (Gen Z) প্রজন্ম ও ছাত্র-যুবরা। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি ছিল যে, দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না এবং অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর পদত্যাগ করতে হবে। এই গণআন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে মাত্র ৭১ দিন আগে জন্ম নেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ তাদের রাজনৈতিক যাত্রার প্রথম মেগা আন্দোলনে এক অভাবনীয় ও ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করল।
রবিবার সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যে নতুন করে তীব্র বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের জোয়ার শুরু হয়েছিল। রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তর চত্বর থেকে শুরু করে বিহার ও গুজরাতের বিভিন্ন শিক্ষা কেন্দ্রগুলিতে হাজার হাজার পড়ুয়া ও আন্দোলনকারী একত্রিত হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। প্রশাসনিক মহলে চরম অস্বস্তির মধ্যেই অবশেষে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত খবর। দেশজুড়ে গড়ে ওঠা এই গণআন্দোলনের প্রচণ্ড দাবির মুখে টিকতে না পেরে শেষমেশ ইস্তফা দিতে বাধ্য হন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্র শক্তির এই বিজয় আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে এক সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।