ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে ধর্মতলায় ভয়ংকর তাণ্ডব! পুলিশের জালে একে একে ধরা পড়ল ১৪ কুখ্যাত দুষ্কৃতী

প্রশ্নফাঁস ও ছাত্র বিক্ষোভের নামে গত শুক্রবার কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলায় যে ভয়াবহ তাণ্ডব, ভাঙচুর এবং আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছিল, সেই ঘটনায় এবার নজিরবিহীন ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কলকাতা পুলিশ। আন্দোলন বা ছাত্র বিক্ষোভের সম্পূর্ণ আড়ালে থেকে যারা সুপরিকল্পিতভাবে শহরে হিংসা ছড়িয়েছিল, সেই কুখ্যাত দুষ্কৃতীদের সন্ধানে লাগাতার অভিযান চালিয়ে মোট ১৪ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে লালবাজারের গুন্ডা দমন শাখা। পুলিশ সূত্রে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, ধৃত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ আদতে কোনো ছাত্র নয়, বরং এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই অতীতে বিভিন্ন অশান্তি ও গোলমাল পাকানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই অসামাজিক উপাদানগুলিকে পাকড়াও করার পর পুলিশ প্রশাসন এখন এই নাশকতার নেপথ্যে থাকা বৃহত্তর রাজনৈতিক বা গোপন ষড়যন্ত্রের গভীরে পৌঁছাতে তৎপর হয়ে উঠেছে।
তদন্তকারী সূত্রে প্রাপ্ত চাঞ্চল্যকর তথ্যে প্রকাশ পেয়েছে যে, গত শুক্রবারের সেই অশান্ত ঘটনার পর কলকাতা পুলিশের গুন্ডা দমন শাখা দ্রুত নড়েচড়ে বসে এবং প্রথমে ১১ জনকে গ্রেফতার করেছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে দু’জন ঘটনার পরেই কলকাতা থেকে পালিয়ে অন্য রাজ্যে আশ্রয় নেওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে গা ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পুলিশের তীব্র নজরদারির মুখে পড়ে তারা শেষ রক্ষা করতে পারেনি; দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের নিকটবর্তী অন্ডাল এলাকা থেকে তাদের অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে পাকড়াও করা হয়। এরপর লালবাজারের অ্যান্টি রাউডি সেকশন বা গুন্ডা দমন শাখার পক্ষ থেকে মহানগরজুড়ে তল্লাশি অভিযান আরও বেশি মাত্রায় তীব্র করা হয়, যার ফলস্বরূপ শনিবার রাত পর্যন্ত আরও ৩ জন দাগী অভিযুক্তকে পুলিশের জালে তুলে আনা হয়। সবমিলিয়ে এই চাঞ্চল্যকর ও হিংসাত্মক মামলায় বর্তমানে মোট ১৪ জনের গ্রেফতারে শহরজুড়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে ধৃতদের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে, যা থেকে স্পষ্ট যে এই হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে ছাত্র সমাজের দূরদূরান্ত পর্যন্ত কোনো সম্পর্ক নেই। ধৃতদের তালিকায় রয়েছে ৩০ বছর বয়সী ইরফান খুরশিদ, যে নিজেকে তথাকথিত ‘জেন জি’ বা নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি সাজিয়ে ওই বিক্ষোভে সামনের সারিতে শামিল হয়েছিল। এ ছাড়া ৫০ বছর বয়সী আরশাদ আলি ওরফে সাজিদ, তিলজলার বাসিন্দা ২৬ বছরের যুবক মহম্মদ মইনুদ্দিন, জোড়াসাঁকোর ৪৮ বছরের বাসিন্দা মহম্মদ আলমগীর, ইমরান আহমেদ ওরফে গোপী, খালিদ রেজা ওরফে রিঙ্কু, জামির আহমেদ, মনিস খান ওরফে রাজু, ভিকি এবং মহম্মদ আজাদের মতো একাধিক কুখ্যাত ও বয়স্ক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমহার্স্ট স্ট্রিট, কড়েয়া, রাজাবাগান, ভাঙড়, বেনিয়াপুকুর এবং গার্ডেনরিচ সহ কলকাতার বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকা থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালিয়ে তাদের একে একে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের শীর্ষকর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, যারা ছাত্র সমাজের পবিত্র আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে প্রকাশ্যে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করেছে, সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের নির্মমভাবে নিগ্রহ করেছে এবং আইনশৃঙ্খলাকে বিঘ্নিত করেছে, তাদের কাউকেই কোনো অবস্থাতেই রেয়াত করা হবে না।