ছাত্রী খুনে উত্তাল বীরভূম, তৃণমূল নেতার ভূমিকা নিয়ে আদিবাসী সংগঠনের তীব্র ক্ষোভ, নবান্ন অভিযানের হুঁশিয়ারি

রামপুরহাটে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী বাহা কিষ্কু খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বীরভূমের রাজনীতি এখন চরম উত্তপ্ত। শিক্ষক মনোজ কুমার পালের হাতে ছাত্রী খুনের এই ঘটনায় এবার সরাসরি তৃণমূল নেতা রবিন সোরেনের ভূমিকা নিয়ে গর্জে উঠেছেন বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠন। প্রকাশ্যে মাইক হাতে তাঁকে ‘কুলাঙ্গার’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে এবং আদিবাসী নেতারা বীরভূম ছাড়া করার হুমকিও দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার এই ইস্যুতে রামপুরহাট শহরে তীর-ধনুক সহ বিভিন্ন অস্ত্র হাতে নিয়ে এবং ধামসা মাদল বাজিয়ে প্রায় ৫,০০০ হাজারেরও বেশি আদিবাসী সদস্যের অংশগ্রহণে এক বিশাল মিছিল বের হয়।
গণস্বাক্ষর সংগ্রহ ও নবান্ন অভিযানের হুমকি
সপ্তাহের ব্যস্ততম দিনে হাজার হাজার আদিবাসীর মিছিলে কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে রামপুরহাট শহর। মিছিল চলাকালীনই চলে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ। আদিবাসী সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, সংগৃহীত স্বাক্ষরগুলি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। তাদের দাবি, আদিবাসী নাবালিকা ছাত্রীকে খুনে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে ফাঁসি দিতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী অধিকার মঞ্চের সম্পাদক পুলীন বিহারী বাস্কে বলেন:
“এখনও পর্যন্ত পুলিশ ছাত্রীর দেহের একাংশ উদ্ধার করতে পারেনি। ফলে আমাদের মনে পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আমরা চাই অবিলম্বে অভিযুক্ত শিক্ষকের ফাঁসি দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে শাসক দলের যারা থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে এসেছিল, তাদেরও শাস্তি দিতে হবে। বিচার না পেলে নবান্ন ঘেরাও করে পুলিশ মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
তৃণমূল নেতার ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক
ছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার পর ১৯ দিন ধরে তার খোঁজ মেলেনি। অবশেষে শিক্ষকের কাছে পড়তে যাওয়ার অভিযোগে শিক্ষক মনোজ কুমার পালকে গ্রেফতার করা হয় এবং ১৬ সেপ্টেম্বর সেচখাল থেকে তার পচাগলা মৃতদেহের একাংশ উদ্ধার হয়। কিন্তু এখনও কোমরের নিচের অংশ এবং দুটি পায়ের খোঁজ মেলেনি। এরই মধ্যে ২৬ সেপ্টেম্বর তড়িঘড়ি শুধুমাত্র শিক্ষককে অভিযুক্ত করে খুনের চার্জশিট জমা দেওয়া হয়।
আন্দোলনরত আদিবাসীরা পুলিশের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে ছাত্রীর মা-বাবার একটি ভিডিও বার্তা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাদের দাবি, তৃণমূল নেতা রবিন সোরেন ভয় দেখিয়ে ওই কথা বলিয়ে নিয়েছেন ছাত্রীর বাবা-মা’য়ের কাছ থেকে।
পাল্টা তোপ তৃণমূলের
এই পরিস্থিতিতে আদিবাসী সংগঠনের আন্দোলনকে নস্যাৎ করে দিয়েছে তৃণমূল। তৃণমূলের জেলা সহ সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় পাল্টা আক্রমণ করে বলেন:
“মায়ের থেকে মাসির দরদ বেশি মনে হচ্ছে। যাদের মেয়ে মারা গিয়েছে তারা পুলিশের কাজে খুশি। অথচ কিছু আদিবাসী সংগঠন ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে বীরভূমকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে।”
আগামী ১৫ অক্টোবর জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইবে আদিবাসী সংগঠনগুলি। এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে থামার নয় বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।