চীনের কপালে চিন্তার ভাঁজ! ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে বিশাল প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে চলেছেন মোদী

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইন্দোনেশিয়া সফর ঘিরে ভূ-রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ৬ থেকে ৮ জুলাই তিন দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে ‘ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল’ ক্রয় সংক্রান্ত একটি বড় চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে। এই পদক্ষেপ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সমুদ্রসীমায় ভারতের প্রভাব বিস্তারের পাশাপাশি চীনের আধিপত্য রুখতে বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ? প্রতিরক্ষা সূত্র মারফত জানা গেছে, ২০২৬ সালের মার্চের প্রাথমিক চুক্তির পর এবার ইন্দোনেশিয়া ভারতের কাছ থেকে ব্রহ্মোস মিসাইল সিস্টেমের আরও ব্যাটারি কিনতে আগ্রহী। এর আগে উপকূলীয় নিরাপত্তার জন্য ১৫০ থেকে ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি হয়েছিল, যা এখন পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

চীনের চারদিকে ‘ব্রহ্মোস বেল্ট’ চীনকে কৌশলগতভাবে চাপে ফেলতে ভারত এক অসামান্য কূটনৈতিক চাল চেলেছে। ফিলিপাইনের পর ইন্দোনেশিয়া দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ভারতের কাছ থেকে এই বিধ্বংসী মিসাইল কিনছে। এছাড়া ভিয়েতনামের সঙ্গেও আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ফলে চীনের প্রতিবেশী দেশগুলোতে ব্রহ্মোস মিসাইলের এক শক্তিশালী ‘সুরক্ষা বলয়’ বা ‘বেল্ট’ তৈরি হচ্ছে।

চুক্তির বিশেষত্ব:

  • প্রযুক্তি হস্তান্তর (Transfer of Technology): শুধুমাত্র মিসাইল কেনা নয়, ইন্দোনেশিয়া এই সংক্রান্ত প্রযুক্তি হস্তান্তরেরও প্রস্তাব রেখেছে।

  • খনিজ সম্পদ বিনিময়: ইন্দোনেশিয়ার কাছে প্রচুর পরিমাণে ‘নিকেল’-এর মজুত রয়েছে, যা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। এই সফরে খনিজ আহরণ নিয়েও একাধিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হতে পারে।

  • মারাত্মক ব্রহ্মোস: ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি ব্রহ্মোস বিশ্বের দ্রুততম সুপারসনিক মিসাইল। এর ২৯০ কিলোমিটার রেঞ্জ এবং শব্দের চেয়েও দ্রুত গতির মোকাবিলা করা প্রায় অসম্ভব, যা ইন্দোনেশিয়ার ১৭,০০০ দ্বীপের সমুদ্রসীমা রক্ষায় অপরিহার্য।

‘অ্যাক্ট ইস্ট’ পলিসি ও ভারতের নতুন লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফর ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতিকে নতুন গতি প্রদান করবে। সমুদ্র নিরাপত্তা রক্ষা থেকে শুরু করে যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে একে অপরের সহযোগী হয়ে ওঠার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে নয়াদিল্লি ও জাকার্তা। চীনের বাড়বাড়ন্তের বিরুদ্ধে এই শক্তিশালী কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিশ্চিতভাবেই এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক বড় মোড় নিয়ে আসবে।