চীনের অনুকরণে নতুন ‘আর্মি রকেট ফোর্স’ গঠন পাকিস্তানের, ভারতের সঙ্গে ঠান্ডা প্রতিযোগিতা?

৭৮তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যুক্ত হলো নতুন একটি বাহিনী, যার নাম ‘আর্মি রকেট ফোর্স’। বুধবার মধ্যরাতে এই নতুন বাহিনীর ঘোষণা করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তবে এই বাহিনীর সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। শাহবাজ শরিফ এটিকে দেশের সামরিক সক্ষমতার অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এই প্রসঙ্গে শাহবাজ শরিফ আরও দাবি করেন যে, গত মে মাসে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের যে সংঘর্ষ হয়েছিল, তাতে নাকি পাকিস্তান সফল হয়েছিল। সেই ‘সফলতার’ স্মারক হিসেবেই এই নতুন বাহিনী তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এই অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারিও উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই নতুন বাহিনী গঠনের পেছনে চীনের প্রভাব রয়েছে। চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) চতুর্থ শাখাটির নামও ‘রকেট ফোর্স’। এই বাহিনীর প্রধান কাজ হলো চীনের ব্যালিস্টিক, হাইপারসোনিক এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সম্পূর্ণ অস্ত্রাগার পরিচালনা করা। এর পাশাপাশি, চীনের পারমাণবিক অস্ত্রের ভাণ্ডারও এই বাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকে। তাই অনুমান করা হচ্ছে, পাকিস্তানের নতুন বাহিনীটিও সম্ভবত একই ধরনের দায়িত্ব পালন করবে।

উল্লেখ্য, চীন বিভিন্ন সময়ে পাকিস্তানকে অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করেছে। স্বাধীনতা দিবসের এই অনুষ্ঠানে শাহবাজ শরিফ চীনকে ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। এছাড়াও তিনি সৌদি আরব, তুরস্ক, আজারবাইজান, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, মে মাসে পহেলগাঁও-এ জঙ্গি হামলার জবাবে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে একটি সেনা অভিযান চালায়, যেখানে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে থাকা বেশ কিছু জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এই সংঘর্ষ চার দিন ধরে চলার পর অবশেষে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এর পরেও ভারত ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্কে কোনো উন্নতি হয়নি। সম্প্রতি পাকিস্তানের বেশ কিছু শীর্ষ নেতাকে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুমকি দিতে দেখা গেছে। এই আবহের মধ্যেই পাক সেনাবাহিনীতে এই নতুন বাহিনীর সংযোজন নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি করেছে।