আষাঢ়ের রথযাত্রায় পাপমোচনের সুযোগ! জগন্নাথ মন্দিরের সেই রহস্যময় প্রথা জানেন?

আষাঢ় মাসের সূচনা মানেই ভক্তদের মনে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার উন্মাদনা। ওড়িশার পুরী মন্দিরে ভগবান জগন্নাথ, তাঁর বড় ভাই বলভদ্র এবং বোন সুভদ্রা দেবীর এই পবিত্র রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় তিথিতে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রথের রশি স্পর্শ করলে বা টানলে বহু জন্মের পুঞ্জীভূত পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এই বছর ১৬ই জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২৪শে জুলাই পর্যন্ত চলবে এই বর্ণাঢ্য মহাউৎসব। কিন্তু রথযাত্রার এই উৎসবমুখর পরিবেশের আড়ালে জগন্নাথ মন্দিরে জড়িয়ে রয়েছে এমন কিছু রহস্য, যা আজও বিজ্ঞান ও ভক্তির এক অদ্ভুত মেলবন্ধন।

সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রথা হলো ‘নবকলেবর’। প্রতি ১২ বছর অন্তর ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র, সুভদ্রা এবং সুদর্শন জীর বিগ্রহ পরিবর্তন করা হয়। ‘নবকলেবর’ শব্দের অর্থ হলো ‘নতুন দেহ’। যেহেতু এই বিগ্রহগুলি কাঠের তৈরি, তাই সময়ের সাথে সাথে সেগুলির ক্ষয় রোধ করতে এই নিয়ম পালিত হয়। তবে এই প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গোপনীয় এবং রহস্যময়।

নবকলেবর অনুষ্ঠানের সময় পুরো পুরী শহরে নিশ্ছিদ্র অন্ধকার নামিয়ে আনা হয়। শহরের সব আলো নিভিয়ে দেওয়া হয় যাতে সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, কোনো প্রাণীও যেন এই দৃশ্য দেখতে না পায়। এমনকি মন্দিরের পুরোহিতরাও এই আচার-অনুষ্ঠান পালনের সময় নিজেদের চোখ বেঁধে রাখেন। বিশ্বাস করা হয়, এই রূপান্তরের মুহূর্তটি এতই পবিত্র ও গোপনীয় যে তা মানুষের চোখের আড়ালে থাকা আবশ্যক।

এই বিগ্রহগুলি তৈরি হয় বিশেষ নিম কাঠ দিয়ে। এর পেছনেও রয়েছে কঠোর নিয়ম। মন্দিরের প্রধান পুরোহিত মূর্তি তৈরির জন্য নির্দিষ্ট গাছ নির্বাচন করেন। নিম গাছটিকে হতে হয় অন্তত ১০০ বছরের পুরনো এবং সর্বদোষমুক্ত। সেই গাছ থেকে নতুন বিগ্রহ তৈরির প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে সম্পন্ন হয়। কেন পুরোহিতদের চোখ বেঁধে রাখা হয়, কেনই বা পুরো শহর অন্ধকার করে দেওয়া হয়—এই প্রশ্নের উত্তর আজও সাধারণ মানুষের কাছে এক অমীমাংসিত রহস্য। ভক্তদের কাছে এটি ভগবানের নিজের ইচ্ছায় রূপান্তর, আর বিজ্ঞানীদের কাছে এটি এক প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী প্রথা। ১৬ই জুলাই থেকে শুরু হতে চলা এবারের রথযাত্রার দিনগুলোতে ভক্তরা এই অলৌকিক শক্তি ও ঐতিহ্যের টানেই ভিড় জমাবেন পুরীর পথে।