চিন-আমেরিকার সঙ্গে একই সারিতে ভারত! রেল থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে বাজিমাত অগ্নি প্রাইম-এর

ভারত তার সামরিক শক্তির মুকুটে এক নতুন পালক যোগ করেছে। বৃহস্পতিবার ভোরে ভারত সফলভাবে পরমাণু ক্ষমতা সম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ‘অগ্নি প্রাইম’ (Agni Prime) উৎক্ষেপণ করেছে। এই উৎক্ষেপণের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো, এটি কোনো নির্দিষ্ট লঞ্চ প্যাড থেকে নয়, বরং একটি রেলগাড়ি থেকে করা হয়েছে। এই সাফল্যের ফলে আমেরিকা, চিন এবং রাশিয়ার মতো হাতেগোনা কয়েকটি দেশের সঙ্গে একই সারিতে উঠে এলো ভারত।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এই উৎক্ষেপণের ভিডিও প্রকাশ করেছেন। ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (DRDO) জানিয়েছে, রেলগাড়ির ওপর থেকে এই সফল উৎক্ষেপণ ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে। অগ্নি প্রাইম প্রায় ২০০০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

কেন এই প্রযুক্তি ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?

রাজনাথ সিং বলেন, “বিশেষ পরিকল্পনার মাধ্যমে রেল-নির্ভর যান থেকে এই উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।” এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, ক্ষেপণাস্ত্রকে দেশের যেকোনো প্রান্তে অল্প সময়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। প্রায় ৭০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ রেল নেটওয়ার্ক থাকায় শত্রুপক্ষের নজর এড়িয়ে এই ক্ষেপণাস্ত্র লুকিয়ে রাখা এবং প্রয়োজনে যেকোনো সময় উৎক্ষেপণ করা ভারতীয় সেনার পক্ষে সহজ হবে। দেশের যেসব প্রত্যন্ত অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত নয়, সেখান থেকেও এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

বিশ্বের আর কোন দেশ এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে?

বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি দেশই রেলগাড়ি থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে সক্ষম। আটের দশকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নই প্রথম এই প্রযুক্তি সফলভাবে ব্যবহার করে। এরপর রাশিয়া এবং আমেরিকাও এই ধরনের পরীক্ষা চালায়। তবে ১৯৯১ সালে স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর আমেরিকা তাদের প্রকল্পটি বাতিল করে। সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়াও এই প্রযুক্তিতে সফল হওয়ার দাবি করেছে, যদিও এর সত্যতা এখনো নিশ্চিত নয়।

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রেললাইনে হামলার ঝুঁকি এবং সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে রেলপথের অভাব এই প্রযুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতা। তবে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, অগ্নি প্রাইম-এর মতো অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলি ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এক নতুন মাত্রা দেবে।