চিটফান্ড কাণ্ডে রাজ্যে ইডি-র বড় অভিযান! ১০০ কোটির দুর্নীতিতে চার জেলায় তল্লাশি

চিটফান্ড সংক্রান্ত এক বিশাল আর্থিক দুর্নীতির মামলার তদন্তে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজ্যের একাধিক জেলায় একযোগে অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। হাওড়া, হুগলি, নদীয়া ও পশ্চিম বর্ধমান—সহ বিভিন্ন জায়গায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই অভিযানে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

অভিযোগের নেপথ্যে:
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, একটি কথিত চিটফান্ড সংস্থার মাধ্যমে বেআইনি বিনিয়োগ প্রকল্পের নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা তোলা হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। আর্থিক লেনদেনের গতিপথ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতেই ইডির এই অভিযান।

কোথায় কোথায় তল্লাশি?

অন্ডাল: পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডাল স্টেশন সংলগ্ন বাসকা এলাকার বাসিন্দা রাম মল্লিকের বাড়িতে এদিন সকালে হানা দেন ইডি আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, খড়্গপুরের একটি চিটফান্ড সংস্থার সঙ্গে এই মামলার যোগসূত্র রয়েছে।

শেওড়াফুলি: হুগলি জেলার শেওড়াফুলিতেও সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ পৌঁছে যায় ইডির একটি দল। স্থানীয় সূত্রে খবর, পল্টু বড়াল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। ওই পরিবারের এক সদস্য চিটফান্ড ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে শোনা যাচ্ছে।

হাওড়া: শহরের কুচিল সরকার লেনের একটি আবাসনে সৌরভ চট্টোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, একটি ভুয়ো সংস্থা তৈরি করেই এই তছরুপ চালানো হয়েছিল।

তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি:
সকাল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন নথিপত্র, ব্যাংকের তথ্য এবং ডিজিটাল ডিভাইস পরীক্ষা করেন আধিকারিকরা। তবে এখন পর্যন্ত ইডির পক্ষ থেকে এই তল্লাশি অভিযানে ঠিক কী কী উদ্ধার হয়েছে বা সুনির্দিষ্টভাবে কাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

এই অভিযানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা বলয় ছিল চোখে পড়ার মতো। তদন্তের পরবর্তী ধাপে আরও নতুন কোনো নাম উঠে আসে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।