চিকিৎসা নয়, আত্মনির্ভরতাই আসল লক্ষ্য! সোথি আশ্রমের মডেল দেখে মুগ্ধ মুখ্যমন্ত্রী

কুষ্ঠরোগের চিকিৎসা অনেক হয়েছে, কিন্তু সেই রোগীদের মূলধারার সমাজে ফিরিয়ে এনে আত্মনির্ভর করার লড়াইটা দীর্ঘ। সেই দীর্ঘ লড়াইয়ে ছত্তিশগড়ের সোথি আশ্রম এক উজ্জ্বল মডেল হিসেবে উঠে এসেছে। সম্প্রতি এই আশ্রম পরিদর্শন করে মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেব সাই এই সেবামূলক কার্যক্রম ও পুনর্বাসন পদ্ধতির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
আশ্রমের বিশেষত্ব: ১৯৬২ সালে সদাশিব গোবিন্দ কাট্রে প্রতিষ্ঠিত এই আশ্রম এখন কুষ্ঠ রোগীদের জন্য এক ‘মর্যাদার তীর্থস্থান’। এখানে রোগীদের শুধু বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা (২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল) দেওয়াই হয় না, বরং তাদের সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচার আত্মবিশ্বাস জোগানো হয়। বর্তমানে ৭৫ জন রোগী এখানে আশ্রয় নিয়ে আছেন।
কেন এটি অনন্য? সোথি আশ্রম কেবল দানের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং এটি স্বনির্ভরতার পাঠশালা। এখানে রোগীরা শিখছেন:
কারিগরি শিক্ষা: সেলাই, ওয়েল্ডিং, কম্পিউটার চালানো ও গাড়ি চালানো।
কৃষি ও হস্তশিল্প: চাষাবাদ, বাগান করা, কার্পেট ও দড়ি তৈরির মতো কাজ।
সামাজিক উন্নয়ন: রোগীদের সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব এবং নিয়মিত বিনামূল্যে চক্ষু ও স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন।
মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা: আশ্রমটি পরিদর্শন করে মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেব সাই বলেন, “কুষ্ঠরোগ কেবল শারীরিক অসুস্থতা নয়, এটি সামাজিক অবহেলা ও বৈষম্যেরও কারণ। কাউকে করুণা করা নয়, বরং তাকে আত্মমর্যাদার সাথে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করাই সমাজের প্রকৃত সেবা।” মুখ্যমন্ত্রী আশ্রমের সেবা কার্যক্রমকে মানবিক উন্নয়নের এক শক্তিশালী উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।