চিংড়ি কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসের হানা! অ্যামোনিয়া লিক হয়ে মৃত্যু ৭ শ্রমিকের, আশঙ্কাজনক ১০

ফের শিল্পক্ষেত্রে গাফিলতির চরম মূল্য দিতে হলো শ্রমিকদের। তামিলনাড়ুর তিরুভাল্লুর জেলার পেরিয়াপালায়ামে অবস্থিত একটি চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় অ্যামোনিয়া গ্যাস লিকের ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যে ৭ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চেন্নাইয়ের স্ট্যানলি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।
কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা? সূত্রের খবর, শনিবার সকালে স্বাভাবিক নিয়মেই কারখানার ভেতরে কাজ চলছিল। হঠাৎই কারখানার স্টোরেজ থেকে অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক হতে শুরু করে। বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে আসার সাথে সাথেই সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। ৪৫ জনেরও বেশি শ্রমিক শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই সংজ্ঞা হারান। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, অনেকেরই নাক ও মুখ দিয়ে রক্তপাত হচ্ছিল, যা পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ ছিল তার ইঙ্গিত দেয়।
হাসপাতালের পরিস্থিতি: দ্রুতগতিতে স্থানীয় বাসিন্দারা ও পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে অসুস্থ শ্রমিকদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গুরুতর অসুস্থদের চেন্নাইয়ের স্ট্যানলি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে, যেখানে তাদের আইসিইউ-তে রেখে চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মৃতদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
রাজ্যপালের শোকবার্তা: এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার। রাজভবনের পক্ষ থেকে জারি করা এক শোকবার্তায় রাজ্যপাল জানান, “পেরিয়াপালায়ামের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহত হওয়ার খবরে আমি গভীরভাবে ব্যথিত। মৃতদের পরিবারের প্রতি আমি সমবেদনা জানাই এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”
প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ: ইতোমধ্যেই কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং শ্রমিকদের সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কীভাবে এত বড় মাত্রায় গ্যাস লিক হলো, তা খতিয়ে দেখতে স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। কারখানার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির মামলা রুজু করার দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।