চারটি নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন! পকসো আইনে ভিনরাজ্যের ধর্মপ্রচারককে কতবার ফাঁসির সাজা দিল আদালত?

তামিলনাড়ুর নেল্লাইয়ে এক লোমহর্ষক ও ন্যক্কারজনক ঘটনার রায়ে চারজন নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সাতাশ বছর বয়সী এক ধর্মপ্রচারককে মোট চারটি মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনাল পকসো (POCSO) বিশেষ আদালত। ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার আড়ালে যেভাবে এই নারকীয় অধ্যায় রচিত হয়েছিল, তার রায়ে কঠোরতম পদক্ষেপ করেছে বিচারব্যবস্থা।
দণ্ডিত ওই ধর্মপ্রচারকের নাম এস আব্রাহাম। তিনি জেলার গঙ্গাইকন্ডন থেভারকুলামের কাছে মেলা ইলাঁথাইকুলাম এলাকায় একটি খ্রিস্টান প্রার্থনা কেন্দ্র বা চার্চ পরিচালনা করতেন। মামলার অভিযোগকারী পক্ষের তথ্য ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত আট, বারো এবং তেরো বছর বয়সি মোট চারজন নাবালিকাকে স্কুল ছুটির সময় নীতিশিক্ষা ও বাইবেল ক্লাসের নাম করে অত্যন্ত সুকৌশলে চার্চে ডেকে পাঠাত। এরপর চার্চের ভেতরেই তাদের ওপর ধারাবাহিক এবং নির্মম যৌন নির্যাতন চালানো হতো। শুধু তাই নয়, অবুঝ শিশুগুলি যাতে এই ভয়াবহ ঘটনার কথা কাউকে না বলে, তার জন্য তাদের খুন বা গুরুতর পরিণতির ভয় দেখিয়ে লাগাতার হুমকি দিত ওই পাষণ্ড।
দীর্ঘ দিন ধরে এই মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চলার পর ভুক্তভোগী নাবালিকাদের পরিবার বিষয়টি বুঝতে পেরে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এরপর ক্ষুব্ধ বাবা-মায়েরা একত্রিত হয়ে তিরুনেলভেলি গ্রামীণ এলাকার ‘অল উইমেন পুলিশ’-এর কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেন। পরিবারের এই অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ করে পুলিশ ২০২২ সালের ৫ জুলাই অভিযুক্ত ধর্মপ্রচারক এস আব্রাহামকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজের অপরাধের কথা পুরোপুরি স্বীকার করে নেয়।
বৃহস্পতিবার এই চাঞ্চল্যকর মামলার চূড়ান্ত রায়দানকালে নেল্লাইয়ের পকসো বিশেষ আদালতের বিচারক কে সুরেশ কুমার অভিযুক্তকে ‘যৌক্তিক সন্দেহের ঊর্ধ্বে সম্পূর্ণ দোষী’ সাব্যস্ত করেন। একইসঙ্গে তিনি এই নৃশংস অপরাধকে ‘বিরলতম অপরাধ’ (rarest of rare) হিসেবে চিহ্নিত করে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেন। বিচারক প্রতিটি ভুক্তভোগী শিশুর জন্য দোষীকে একটি করে—অর্থাৎ মোট চারটি মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনান এবং পাশাপাশি বায়ান্ন হাজার টাকা জরিমানাও ধার্য করেন।
রায়দানকালে অত্যন্ত কঠোর পর্যবেক্ষণ পেশ করে বিচারক মন্তব্য করেন যে, সমাজে যে সমস্ত ধর্মপ্রচারকদের মানুষের পথ দেখানোর এবং নৈতিকতা শেখানোর গুরুদায়িত্ব থাকে, তারাই আজ এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে। আব্রাহাম যাদের সঠিক পথে পরিচালিত করার কথা ছিল, তাদেরই নিজের পাশবিক শিকার বানিয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, আদালতে এই পৈশাচিক অপরাধের জন্য তার মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা দেখা যায়নি।
বিশেষ আদালত শুধু দোষীর সাজা ঘোষণা করেই ক্ষ্যান্ত থাকেনি, বরং তামিলনাড়ু সরকারকে নির্যাতিতাদের পুনর্বাসনের জন্য কড়া নির্দেশ দিয়েছে। আদালত সাফ জানিয়েছে যে, চারজন ভুক্তভোগী নাবালিকাকে আর্থিক সহায়তা হিসেবে অবিলম্বে জনপ্রতি দশ লক্ষ টাকা প্রদান করতে হবে। ধর্মের মুখোশ পরে শিশুদের ওপর চলা এই পাশবিক অত্যাচারের বিচার এবং আদালতের এই কঠোর রায় গোটা রাজ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও স্বস্তির আবহ তৈরি করেছে।