যাদবপুরে রাজনৈতিক পারদ চড়ছে! বিধায়কের মন্তব্য ঘিরে ঋদ্ধি সেনের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে জোর চর্চা

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসএফআই (SFI) এবং এবিভিপি (ABVP)-র সমর্থকদের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ এবং অশান্তির পরিবেশ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তরজা তুঙ্গে উঠেছে। বুধবার রাতের ওই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও উত্তেজনার পর থেকেই রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি টলিপাড়ার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরাও মুখ খুলতে শুরু করেছেন। এবার বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের করা আক্রমণাত্মক মন্তব্যের তীব্র জবাব দিতে দেখা গেল জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত খ্যাতনামা অভিনেতা ঋদ্ধি সেনকে। যদিও নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি সরাসরি ওই বিধায়কের নাম নেননি, তবে তাঁর নিশানায় যে শর্বরী মুখোপাধ্যায়ই ছিলেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।

নিজের স্বভাবসিদ্ধ তীক্ষ্ণ ও ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে ঋদ্ধি ফেসবুকে লেখেন, ‘সবে সবে ভোটে জিতলে গলার আওয়াজ বাড়ে বৈকি, ভোটের মার্জিনের সাথে সাথে চিৎকারের মার্জিনও বাড়ে, বাড়ে বাজে কথাও!’ এরপরই তাঁর কটাক্ষ, বিশেষ করে সেই পরিস্থিতিতেই এমন ঘটনা ঘটে, যখন জয়ী প্রার্থী খুব ভালো করেই জানেন যে কাজ বা জনসমর্থনের মাধ্যমে সেই জয় ধরে রাখার রাজনৈতিক ক্ষমতা বা সদিচ্ছা তাঁর নেই। কাজের মাধ্যমে মানুষের দীর্ঘস্থায়ী আস্থা অর্জন করার পরিবর্তে চিৎকার এবং সমাজে ঘৃণা উস্কে দেওয়ার পথই বেছে নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন এই অভিনেতা। তাঁর মতে, এই ধরনের প্ররোচনামূলক আচরণ দিয়ে সাময়িকভাবে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত বাস্তবতাকে আড়াল করা সম্ভব হয় না। সেই প্রসঙ্গেই প্রচলিত প্রবাদ টেনে তিনি লেখেন, ‘শাক দিয়ে যে কোনো দিন মাছ ঢাকা যায় না।’

শুধু রাজনৈতিক বা আদর্শগত সমালোচনাস্ফীতিতেই থেমে থাকেননি তরুণ এই অভিনেতা, বরং বিধায়কের বক্তব্যের ধরন এবং উচ্চারণশৈলী নিয়েও এক হাত নিয়েছেন তিনি। অভিনয়ের পেশাগত প্রেক্ষাপট টেনে এনে ঋদ্ধি লেখেন, ‘আপাতত কিছুদিন অভিনয়টা আরেকটু মন দিয়ে করতে হবে।’ তাঁর মতে, সাজপোশাক ঠিকঠাক থাকলেও জনসমক্ষে কথা বলার সময় ‘vocal modulation’ বা গলার স্বরের ওঠানামার ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় লাগাতার উগ্র ও উঁচুগলায় কথা বললে তা শুনতে অত্যন্ত একঘেয়ে ও বিরক্তিকর লাগে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। যাদবপুরের সাম্প্রতিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে ঋদ্ধি সেনের এই ধারালো সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। কেউ কেউ তাঁর এই অবস্থানকে সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে দেখছেন, আবার বিরোধীরা একে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সস্তা প্রচার পাওয়ার চেষ্টা বলে কটাক্ষ করছেন।