চাকরি দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকার ঘুষ! সিবিআইয়ের জালে দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ের ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ার

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এবং বেআইনিভাবে আর্থিক প্রতারণার গুরুতর অভিযোগে রেলওয়ের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে গ্রেফতার করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)। দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ের ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ার সত্যম কুমারকে চাকরির নামে ঘুষ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সিবিআই আধিকারিকরা হাতেনাতে পাকড়াও করেছেন। এই ঘটনায় গোটা রেল দপ্তরে এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে যে, সাধারণ ও সরলপ্রকৃতির চাকরিপ্রার্থীদের বিভিন্ন দপ্তরে মোটা বেতনের চাকরির লোভ দেখিয়ে মোটা অংকের উৎকোচ দাবি করা হতো। আর সেই ফাঁদে পা দিয়েই সর্বস্বান্ত হয়েছেন বহু চাকরিপ্রার্থী।

তদন্তকারী সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ২০২৬ সালের মে মাসে সত্যম কুমারের বিরুদ্ধে অন্তত ৪ লক্ষ টাকা নগদ ঘুষ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। রেলের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের উচ্চপদে থেকে এ ধরনের বেআইনি আর্থিক তছরুপ ও দুর্নীতি বরদাস্ত না করে তৎক্ষণাৎ তদন্তে নামে সিবিআই-এর দুর্নীতি দমন শাখা। দীর্ঘ দু’মাস ধরে লাগাতার তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ ও গোপনীয় তল্লাশি চালানোর পর অবশেষে সিবিআইয়ের জালে ধরা পড়েন ওই রেলকর্তা। শুধু দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ের অভিযুক্ত ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ার সত্যম কুমার একাই নন, এই চাঞ্চল্যকর আর্থিক দুর্নীতির মামলায় ‘এমআরটি সিগন্যালস লিমিটেড’ (MRT Signals Ltd.) নামক একটি বেসরকারি সংস্থার আরও দুই শীর্ষ আধিকারিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে এই তিন অভিযুক্তকে পাকড়াও করে সিবিআই তাদের কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

অন্যদিকে, এই রেল দুর্নীতির ঘটনার পাশাপাশি বাংলার অন্য প্রান্ত থেকেও বড় ধরনের আর্থিক প্রতারণা ও তোলাবাজির আরও একটি চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে। বাঁকুড়া জেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলা আর্থিক প্রতারণা, জবরদস্তি তোলাবাজি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে তৃণমূল কংগ্রেসের এক প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ধৃত ওই নেতার নাম বারাণসী গড়াই। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ার স্থানীয় স্তরে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের ওপর জবরদস্তি চালিয়ে আর্থিক ফায়দা লোটার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। একের পর এক দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে শাসকদলের নেতার এমন গ্রেপ্তারির ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। একদিকে রেলের উচ্চপদস্থ কর্তার সিবিআই হেফাজত এবং অন্যদিকে স্থানীয় নেতার পুলিশি গ্রেপ্তার—সব মিলিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি ফের জোরালোভাবে চর্চায় উঠে এসেছে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty