চাকরির লোভ দেখিয়ে কিডনি চুরি! সল্টলেকের যুবকের সঙ্গে নৃশংস প্রতারণায় পর্দাফাঁস, গ্রেফতার এজেন্ট

ভিনরাজ্যে উন্নত কর্মসংস্থানের স্বপ্ন মানুষের চোখে রঙিন আলো জ্বালালেও অনেক সময় সেই স্বপ্নই ডেকে আনে ভয়ংকর পরিণতি। সংসারের অভাব মেটাতে এবং পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে গিয়ে কলকাতা বিধাননগরের এক যুবক যে চরম পরিণতির শিকার হবেন, তা ঘুণাক্ষরেও কেউ ভাবেননি। উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে লুধিয়ানায় নিয়ে গিয়ে যুবকের শরীর থেকে কিডনি পাচার করার এক চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক ঘটনার পর্দাফাঁস হয়েছে। এই ঘৃণ্য চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সল্টলেক থেকে প্রভাস মণ্ডল নামে এক কুখ্যাত এজেন্টকে গ্রেফতার করেছে বিধাননগর থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধাননগরেরই একটি গ্লাভস তৈরির কারখানায় কাজ করতেন মঙ্গল মণ্ডল নামে ওই যুবক। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিচিত হওয়ায় প্রভাস মণ্ডলের সঙ্গে মঙ্গলের সখ্যতা গড়ে উঠেছিল। গত জুলাই মাসের শেষের দিকে হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যান মঙ্গল। ছেলের কোনও খোঁজ না পেয়ে তাঁর বাবা রমাপ্রসাদ মণ্ডল পুলিশের দ্বারস্থ হন। লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, প্রভাসই তাঁর ছেলেকে ভালো চাকরির লোভ দেখিয়ে ভিনরাজ্যে নিয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজির পর প্রভাসের এক আত্মীয়ের মাধ্যমে জানা যায় যে মঙ্গল পাঞ্জাবে রয়েছে।
এরপর গত ১২ আগস্ট কোনও রকমে কলকাতায় নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন মঙ্গল। প্রথমে পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারেননি যে তাঁর ওপর দিয়ে কতটা ঝড় বয়ে গেছে। কিন্তু পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের মারফত মঙ্গলের কিডনি বিক্রির খবর প্রকাশ্যে আসতেই পরিবারে নেমে আসে কান্নার রোল। জানা যায়, মোটা অংকের বেতনের ফাঁদে ফেলে মঙ্গলকে লুধিয়ানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সেখানে তাঁর একটি কিডনি জোরপূর্বক বা প্রতারণা করে শরীর থেকে বের করে নেওয়া হয়। এই ঘটনার পরেই মঙ্গলের পরিবারের পক্ষ থেকে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়।
তদন্তে নেমে বিধাননগর থানার পুলিশ এই কিডনি পাচার চক্রের অন্যতম মিডলম্যান প্রভাস মণ্ডলকে পাকড়াও করে। ধৃত প্রভাসকে লাগাতার জেরা করার পর এই চক্রের মূল পান্ডা শাকিল নামে উত্তরপ্রদেশের এক বাসিন্দার নাম উঠে আসে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চক্রের শিকড় বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে এবং পঞ্জাব ও উত্তরপ্রদেশ জুড়ে এর জাল ছড়ানো রয়েছে। পলাতক শাকিলের খোঁজে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু করেছে তদন্তকারী দল। এই আন্তর্জাতিক বা আন্তঃরাজ্য অঙ্গ পাচার চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং এর নেপথ্যে কোন বড় চক্র কাজ করছে, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।