চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিরাট সুখবর! রাজ্য সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা আরও দুই বছর বাড়াল পশ্চিমবঙ্গ সরকার!

রাজ্য সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমন লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্বস্তিদায়ক বিজ্ঞপ্তি জারি করল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দপ্তর (অডিট শাখা)। গত ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এই নতুন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রাজ্য সরকারি চাকরিতে যোগদানের ক্ষেত্রে বর্ধিত বয়সের ঊর্ধ্বসীমার মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘ দিন ধরে যাঁরা নির্দিষ্ট বয়সের কোঠা পেরিয়ে যাওয়ার কারণে চাকরির প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা থেকে ছিটকে পড়ার আশঙ্কায় ছিলেন, তাঁরা নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর এক সোনালী সুযোগ পেলেন।

অর্থ দপ্তর সূত্রে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ‘West Bengal Services (Raising of Age-limit) Rules, 1981’-এর ১ নম্বর নিয়মের উপ-নিয়ম (২)-এ একটি বিশেষ সংশোধনী আনা হয়েছে। ইতিপূর্বে প্রকাশিত নির্দেশিকায় বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করা হলেও তাতে উল্লেখ ছিল যে এই সুবিধা “পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত” বলবৎ থাকবে। তবে গত ২০ জুলাইয়ের নতুন বিজ্ঞপ্তি (No. 2619-F(P2))-র মাধ্যমে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, এখন থেকে এই বর্ধিত বয়সের সুবিধাটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন থেকে ঠিক আরও দুই বছরের জন্য আইনি বৈধতা লাভ করবে।

এই নতুন বিজ্ঞপ্তিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘সেভিং ক্লজ’ বা সংরক্ষণ ধারা বিশেষভাবে যুক্ত করা হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই নির্ধারিত দুই বছরের সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পরও চাকরিপ্রার্থীরা বয়সের এই অতিরিক্ত সুবিধা নির্বিঘ্নে ভোগ করতে পারবেন, যদি সংশ্লিষ্ট নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিটি এই দুই বছরের বৈধ মেয়াদের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়ে থাকে। অর্থাৎ, আগামী দুই বছরের মধ্যে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে প্রকাশিত হতে চলা যেকোনো চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে বয়সের এই বর্ধিত ছাড়ের নিয়মটি সম্পূর্ণভাবে প্রযোজ্য হবে। এমনকি এই নির্দিষ্ট মেয়াদের পর নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে দীর্ঘ সময় লাগলেও প্রার্থীরা বয়সের সুযোগ থেকে কোনোভাবেই বঞ্চিত হবেন না।

রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে শূন্য পদ দ্রুত পূরণের লক্ষ্যে আগামী দিনে যে সমস্ত নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া আয়োজিত হবে, তার প্রায় সবকটিতেই এই বর্ধিত বয়সের নিয়ম বাধ্যতামূলকভাবে লাগু করা হবে। অর্থ দপ্তরের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে বাংলার তরুণ সমাজ আরও বেশি সংখ্যায় সরকারি চাকরির লড়াইয়ে অংশ নিতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট মহলের বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে চাকরির সুযোগ বৃদ্ধির এই পদক্ষেপ বেকারত্ব দূরীকরণে এক বিরাট ভূমিকা পালন করবে। তাই সমস্ত চাকরিপ্রার্থীদের নতুন এই নিয়ম সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল থেকে নিজেদের आगामी প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলির প্রস্তুতি আরও শাণিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।