মহাকাশ গবেষণায় আজ এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। নাসার Artemis 2 মিশনে ওরিয়ন (Orion) মহাকাশযানে চেপে চাঁদের একেবারে কাছে পৌঁছে গেলেন মহাকাশচারীরা। পৃথিবী থেকে আমরা চাঁদের যে পিঠটি সবসময় দেখি, তার উল্টো দিকটি অর্থাৎ ‘ফার সাইড’ (Far Side) এতদিন ছিল মানুষের চোখের আড়ালে। আজ সেই অদেখা দৃশ্যই প্রথমবার সামনাসামনি দেখলেন নাসার বীর মহাকাশচারীরা।
মিশনের রোমাঞ্চকর মুহূর্তসমূহ:
৬,৫০০ কিমি দূর থেকে পর্যবেক্ষণ: মহাকাশচারীরা চাঁদের মাত্র ৬,৫০০ কিলোমিটার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় গর্ত (ক্রেটার) এবং পাথরের অদ্ভুত সব রং পরীক্ষা করেছেন।
মহাকাশীয় সূর্যগ্রহণ: ওরিয়ন থেকে মহাকাশচারীরা এক অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করেছেন— চাঁদ যখন সূর্যের সামনে চলে আসে, তখন চারপাশে আলোর এক মায়াবী বিচ্ছুরণ তৈরি হয়। এক মহাকাশচারীর কথায়, “চোখে দেখছি বটে, কিন্তু নিজের মস্তিষ্কে তা যেন বিশ্বাসই হচ্ছে না!”
৪০ মিনিটের নীরবতা: চাঁদের উল্টো পিঠ দিয়ে যাওয়ার সময় পৃথিবী ও মহাকাশযানের মাঝে চাঁদ বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় প্রায় ৪০ মিনিট নাসার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। এই ‘ব্ল্যাকআউট’ পর্বটি ছিল চরম উত্তেজনার।
কেন আকর্ষণের কেন্দ্রে দক্ষিণ মেরু?
ঠিক যে সময় ওরিয়ন মহাকাশযান চাঁদের উপর দিয়ে যাচ্ছিল, নিচে দক্ষিণ মেরুতে তখন নিঃশব্দে কাজ করছিল ভারতের চন্দ্রযান-৩ এর প্রজ্ঞান রোভার।
বরফের অস্তিত্ব: দক্ষিণ মেরুর কিছু গর্তে কোটি কোটি বছর সূর্যের আলো পৌঁছায়নি, যেখানে তাপমাত্রা মাইনাস ২৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এখানেই লুকিয়ে আছে অমূল্য বরফ।
ভবিষ্যতের জ্বালানি: এই বরফ থেকে পানীয় জল এবং রকেটের জ্বালানি তৈরি করা সম্ভব। তাই বিজ্ঞানীরা একে বলছেন সৌরজগতের সবথেকে দামী জায়গা বা ‘সোনার খনি’।
ইলন মাস্কের শেয়ার করা ভিডিও ভাইরাল
স্পেস-এক্স কর্তা ইলন মাস্ক (Elon Musk) এই মিশনের একটি ভিডিও এক্স (X) হ্যান্ডলে শেয়ার করেছেন, যা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে চাঁদের মাটি এতটাই স্পষ্ট যে মনে হচ্ছে হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে।
NASA Artemis passing close to the Moon pic.twitter.com/jLvGoW1IR9
— Elon Musk (@elonmusk) April 7, 2026
পরবর্তী লক্ষ্য কী?
নাসা জানিয়েছে, এই মিশনের সাফল্য ২০২৮ সালের দিকে চাঁদের মাটিতে মানুষ নামানোর পথ প্রশস্ত করল। যেখানে কখনও মানুষের পা পড়েনি, সেই দুর্গম দক্ষিণ মেরুতেই এবার আস্তানা গাড়তে চায় আমেরিকা। ভারতের চন্দ্রযান-৪ মিশনও এখন আলোচনার কেন্দ্রে, যা চাঁদের মাটি নিয়ে পৃথিবীতে ফিরবে।
বিজ্ঞানীদের মতে, আজ থেকেই শুরু হলো এক নতুন ‘চন্দ্রযুগ’। মহাকাশে মানুষের আধিপত্য স্থাপনের লড়াইয়ে এই দিনটি স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।





