মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের আগেই শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী ও আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বড়সড় সাফল্য পেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)। উত্তরপ্রদেশের বালিয়া জেলা থেকে এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত গোলু সিং ওরফে টাইগারকে গ্রেফতার করেছেন তদন্তকারীরা। কেন্দ্রীয় এজেন্সির সূত্রে খবর, ধৃত গোলুকে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। এই গ্রেফতারি চন্দ্রনাথ রথ হত্যা মামলার তদন্তে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, চন্দ্রনাথ রথ হত্যা মামলার তদন্তে ডিআইজি পঙ্কজ কুমার সিংয়ের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। এর আগে এই ঘটনার তদন্তে উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগর থেকে রাজকুমার সিং নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। রাজকুমারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মোনু নামে এক ব্যক্তি একটি পুরনো গ্যাংস্টার অ্যাক্ট মামলায় বালিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করার পরই সিবিআই তদন্তের জাল আরও বিস্তৃত করে। সেই সূত্র ধরেই তারা বালিয়া থেকে গোলু সিং ওরফে টাইগারকে পাকড়াও করতে সক্ষম হয়।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিহার এবং পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির পেশাদার শ্যুটারদের একটি শক্তিশালী চক্র কাজ করছে। গ্রেফতার হওয়া বিক্কি মৌর্য, ময়ঙ্ক মিশ্র এবং তাদের আশ্রয়দাতা বিশাল শ্রীবাস্তবের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক গুরুতর অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। এই শ্যুটারদের শনাক্ত করা এবং তাদের নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলাই এখন সিবিআইয়ের মূল লক্ষ্য। রাজকুমার সিংকেও হরিদ্বার থেকে দিল্লি পালানোর পথে ছাপার টোল প্লাজা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, যা থেকে স্পষ্ট যে অভিযুক্তরা দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় গা ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করছিল।
প্রসঙ্গত, শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যুতে রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। খুনের ধরন ও ষড়যন্ত্রের পেছনে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম উঠে আসায় সিবিআইয়ের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় সংস্থা এই ঘটনায় নতুন করে মামলা দায়ের করে এবং জোরকদমে তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারীদের দাবি, গোলু সিং ওরফে টাইগারের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত মূল চক্রীদের খুব শীঘ্রই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে সিবিআইয়ের এই বিশেষ দল প্রতিটি সূত্র ধরে এগোচ্ছে। পেশাদার শ্যুটারদের নিয়োগ, অস্ত্র সরবরাহ এবং খুনের নেপথ্যে থাকা নির্দেশদাতাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করাই এখন তদন্তের মূল উদ্দেশ্য। গোলু সিংয়ের গ্রেফতারি এই তদন্তে বড় মোড় এনেছে বলে মনে করছেন প্রাক্তন পুলিশকর্তারাও। এই মামলায় অভিযুক্তদের রাজনৈতিক যোগসূত্র আছে কি না, বা কোনো বৃহত্তর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র এর পেছনে লুকিয়ে আছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। আপাতত গোটা রাজ্যের নজর এখন এই মামলার পরবর্তী আপডেট এবং ট্রানজিট রিমান্ডের পর ধৃত গোলু সিংকে জেরা করে সিবিআই কী তথ্য পায়, তার দিকেই।





