‘ঘোড়া কেনাবেচার খেলায় নেই বামেরা!’ ভোট মিটতেই কেন এমন বিস্ফোরক দাবি মহম্মদ সেলিমের?

পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হল। আর ভোট মিটতেই রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিশেষ করে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। বুধবার ভোট প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সেলিম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সিপিএম বা বামপন্থীরা কোনোভাবেই ‘ঘোড়া কেনাবেচার’ নোংরা খেলায় অংশ নেবে না।

সেলিমের দাবি, বাম প্রার্থীরা মানুষের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা রক্ষায় তাঁরা বদ্ধপরিকর। সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বামেদের ভূমিকা কী হবে? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “মানুষ ভোট দিয়েছেন। সেই ভোটে তৃণমূল ও বিজেপি বিরোধী শক্তি হয় সরকার গড়বে, না হয় শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে। তবে কোনো অবস্থাতেই আর্থিক লেনদেন বা কেনাবেচার মাধ্যমে অবস্থান পরিবর্তন হবে না।” এবারের নির্বাচনে সিপিএমের প্রাসঙ্গিকতা যে অনেকখানি ফিরে এসেছে এবং সাধারণ মানুষ যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, তাকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি। তবে বেশ কিছু জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তুলেছেন সেলিম।

অন্যদিকে, এবারের নির্বাচনে রেকর্ড ভোটদানের হার নিয়ে আলোকপাত করেছেন সেলিম। তাঁর মতে, গত কয়েক মাস ধরে নথিপত্র তৈরি এবং ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার লড়াই সাধারণ মানুষকে ভোটের গুরুত্ব বুঝিয়ে দিয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট হলে মানুষ যে উৎসাহিত হয়, এবারের নির্বাচন তার বড় উদাহরণ। তবে তিনি কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের একাংশের কড়া সমালোচনা করেছেন এবং ডায়মন্ড হারবার মডেলের প্রসঙ্গ টেনে নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও বিঁধেছেন।

পাশাপাশি, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’-র অজুহাতে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। এছাড়া বুথগুলোতে পানীয় জল বা বয়স্কদের জন্য সুবন্দোবস্তের অভাব নিয়েও তিনি নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। শুভঙ্কর সরকারের মতে, সংবাদমাধ্যমের একাংশ এই নির্বাচনকে শুধুমাত্র ভবানীপুর কেন্দ্রিক লড়াই হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে, যা মানুষের মূল সমস্যাগুলো থেকে নজর ঘুরিয়ে দেওয়ার কৌশল মাত্র। ভোট পরবর্তী হিংসা রোধে এবং গণনার পরেও শান্তি বজায় রাখতে তিনি প্রশাসনের কাছে কড়া পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy