ঘণ্টা চার্জে ১৫৪ কিমি সফর! বাইকপ্রেমীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এল রয়্যাল এনফিল্ডের ইলেকট্রিক চমক

বাইকপ্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। বাইক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল এনফিল্ড তাদের ঐতিহ্যের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করে বাজারে আনল কোম্পানির প্রথম ইলেকট্রিক বাইক—‘ফ্লাইং ফ্লি C6’ (Flying Flea C6)। পুরনো ক্লাসিক ডিজাইনের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি ও শক্তিশালী পারফরম্যান্সের মেলবন্ধনে তৈরি এই বাইকটি ইতিমধ্যে বাজারে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দাম ও ক্রয় পরিকল্পনা
রয়্যাল এনফিল্ড এই বাইকটির দাম নির্ধারণ করেছে ২.৭৯ লক্ষ টাকা (এক্স-শোরুম)। তবে গ্রাহকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে কোম্পানি নিয়ে এসেছে ‘ব্যাটারি অ্যাজ আ সার্ভিস’ (Battery as a Service) প্ল্যান। এই অপশনটি বেছে নিলে বাইকের দাম কমে দাঁড়াবে মাত্র ১.৯৯ লক্ষ টাকায়। অর্থাৎ, কেনার সময় এককালীন বড় অঙ্কের খরচ থেকে রেহাই পাবেন গ্রাহকরা। বাইকটি ‘স্টর্ম ব্ল্যাক’ এবং ‘ফ্লি গ্রিন’—এই দুটি প্রিমিয়াম রঙে পাওয়া যাচ্ছে।
পারফরম্যান্স ও ব্যাটারি ক্ষমতা
রেঞ্জ: একবার সম্পূর্ণ চার্জে বাইকটি ১৫৪ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ চলতে সক্ষম।
চার্জিং: এর ৩.৯১ কিলোওয়াট আওয়ারের ব্যাটারি মাত্র ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিটেই ফুল চার্জ হয়ে যায়।
গতি ও শক্তি: বাইকটির ১৫.৪ কিলোওয়াটের মোটর ৬০ নিউটন মিটার টর্ক উৎপন্ন করে। এটি মাত্র ৩.৭ সেকেন্ডে ০ থেকে ৬০ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতি তুলতে সক্ষম, এবং এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১১৫ কিলোমিটার।
ওজন: হালকা ডিজাইনের এই বাইকটির ওজন মাত্র ১২৪ কেজি, যা শহরের ট্র্যাফিকের মধ্যে চালানো অত্যন্ত সহজ।
নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি
নতুন এই ইলেকট্রিক মডেলে নিরাপত্তার জন্য রয়েছে ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস (ABS) এবং ট্র্যাকশন কন্ট্রোল। রাইডারদের অভিজ্ঞতার জন্য এতে রয়েছে ৩.৫ ইঞ্চির রঙিন ইনফরমেশন স্ক্রিন এবং পাঁচটি আলাদা রাইডিং মোড। এছাড়াও এতে রিজেনারেটিভ ব্রেকিংয়ের মতো অত্যাধুনিক সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।
কবে ও কোথায় পাওয়া যাবে?
আপাতত ১৯ জুন থেকে বেঙ্গালুরুতে এই বাইকের ডেলিভারি শুরু হয়েছে। কোম্পানি খুব দ্রুত দেশের অন্যান্য শহরেও এই মডেলটি আনার পরিকল্পনা করছে। গ্রাহক সেবার ওপর জোর দিয়ে রয়্যাল এনফিল্ড ২৪ ঘণ্টার বিনামূল্যে রোডসাইড অ্যাসিস্ট্যান্স পরিষেবাও দিচ্ছে।
রয়্যাল এনফিল্ডের এই ইলেকট্রিক যাত্রা বাইকপ্রেমীদের মধ্যে কতটা সাড়া ফেলে, এখন সেটাই দেখার পালা।