গুণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। ২. ‘দুপুরেও কুমড়ো, রাতেও কুমড়ো!’ পিজির ভয়ঙ্কর বাস্তব শুনেই বড় পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ছড়াছড়ি। তবে এর মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে রোগীদের খাবারের মানোন্নয়ন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণাটি আলাদাভাবে নজর কেড়েছে। এতদিন হাসপাতালে রোগীদের তিনবেলা খাবারের জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ ছিল মাত্র ৫৬ টাকা। সোমবার বাজেট ঘোষণার পর সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, এই বরাদ্দ বাড়িয়ে ১১০ টাকা করা হয়েছে।

কেন এই সিদ্ধান্ত? পিজির অভিজ্ঞতা

বাজেট পরবর্তী সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এই সিদ্ধান্তের নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করেন। শুভেন্দু অধিকারী জানান, তিনি সম্প্রতি এসএসকেএম (পিজি) হাসপাতালে পরিদর্শনে গিয়ে যা দেখেছেন, তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি পিজিতে গিয়ে চিকিৎসকদের মুখেই শুনলাম ভয়ঙ্কর বর্ণনা। ডাক্তাররাই আমাকে জানালেন, রোগীদের দুপুরেও কুমড়ো খেতে দেওয়া হচ্ছে, রাতেও সেই কুমড়োই পাতে পড়ছে। কেন এমনটা হচ্ছে জানতে চাইলে চিকিৎসকরা জানান, মাত্র ৫৬ টাকা ৪৪ পয়সায় তিনবেলা ভালো খাবার সরবরাহ করা ঠিকাদার বা সাপ্লায়ারদের পক্ষে অসম্ভব।”

‘গরিব মানুষই সরকারি হাসপাতালের ভরসা’

মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন, “আমি ডাক্তারদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ভালো খাবার দিতে গেলে কত টাকা প্রয়োজন? তারা জানিয়েছিলেন, অন্তত ১০৪ টাকা হলে মোটামুটি মানসম্মত খাবার দেওয়া সম্ভব। আমি অর্থমন্ত্রী স্বপনদাকে বললাম, ১০৪ নয়, এটাকে ১১০ টাকা করে দিন। সরকারি হাসপাতালে ধনী ব্যক্তিরা যান না, সেখানে যান অত্যন্ত গরিব মানুষ। তাদের সুস্থ হয়ে ফেরার জন্য পুষ্টিকর খাবার পাওয়াটা তাদের অধিকার।”

বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বিশেষ নজর

উল্লেখ্য, বিজেপি সরকারের এই প্রথম বড় বাজেটে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মীদের মহার্ঘভাতা (DA) বৃদ্ধি এবং মহিলাদের জন্য আর্থিক সহায়তার মতো একগুচ্ছ প্রকল্পের পাশাপাশি, রোগীদের ডায়েট বা খাবারের মান বাড়ানোর এই মানবিক সিদ্ধান্তটি সাধারণ মানুষের কাছে যথেষ্ট প্রশংসা কুড়িয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদল বিরোধী তকমা ঝেড়ে ফেলে রাজ্যের পরিকাঠামো ও স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এই পরিবর্তনের চেষ্টা আগামী দিনে মানুষের আস্থা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।