গ্রেফতারির খাঁড়ায় কি শেষ রক্ষা হবে? সুপ্রিম কোর্টের দরজায় কড়া নাড়লেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাক্তন আপ্তসহায়ক!

জমি-প্রতারণা মামলায় যেকোনো মুহূর্তে পুলিশি গ্রেফতারির তীব্র আশঙ্কা ও চরম আইনি বিপাকে পড়ে এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) প্রাক্তন আপ্তসহায়ক সুমিত রায় (Sumit Roy)। শালবনির বহুল আলোচিত জমি-প্রতারণা মামলায় নিজের স্বাধীনতার সুরক্ষা ও আগাম জামিনের আর্জি নিয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবারই দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (Surya Kant), বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশন বেঞ্চে এই হাইপ্রোফাইল মামলার জরুরি শুনানির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে কোনো প্রকার আইনি স্বস্তি বা রক্ষাকবচ পাননি সুমিত। শালবনির জমি-প্রতারণা মামলায় গ্রেফতারি এড়াতে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন, কিন্তু গত সোমবার মাননীয় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ তাঁর সেই আগাম জামিনের আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন। যদিও অন্য একটি পৃথক চাকরি-দুর্নীতির মামলায় সুমিতকে শর্তসাপেক্ষে আগাম জামিন মঞ্জুর করেছিলেন বিচারপতি। সেই নির্দেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে আগামী দশ দিনের মধ্যে তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে সুমিতকে আবশ্যিকভাবে হাজিরা দিতে হবে এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় পুরোপুরি সহযোগিতা করতে হবে। তবে সুমিত ও তাঁর আইনি মহলের মূল আশঙ্কা হলো, চাকরি-দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে গেলেই পুলিশ তাঁকে শালবনি জমি-দুর্নীতি মামলায় যেকোনো মুহূর্তে গ্রেফতার করে নিতে পারে। আর এই সুনির্দিষ্ট আশঙ্কার বশবর্তী হয়েই বুধবার জরুরি ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টে নতুন মামলা দায়ের করেন তাঁর আইনজীবীরা।

উল্লেখ্য, এই চাঞ্চল্যকর জমি-দুর্নীতি মামলার মূল প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে। অভিযোগ উঠেছে যে, সেখানে সম্পূর্ণ ভুয়ো ও জাল নথিপত্র তৈরি করে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে বেআইনিভাবে সরকারি জমি দখল করা হতো এবং তা অন্যত্র বিক্রি করা হতো। এই অবৈধ কাজের বিনিময়ে মোটা অঙ্কের কালো টাকা লেনদেন করা হতো বলেও অভিযোগ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই গোটা বেআইনি চক্রান্ত ও সিন্ডিকেটের পেছনে প্রত্যক্ষ সম্মতি এবং মদত ছিল অভিষেকের প্রাক্তন আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই পুলিশ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করে এবং সুমিতের খোঁজে বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশি চালায়। কিন্তু তাঁর কোনো নির্দিষ্ট টিকানা বা নাগাল না মেলায় শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হয় পুলিশ। এরপর মেদিনীপুরের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (CJM) আদালত অভিযুক্ত সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে কঠোর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। গত মঙ্গলবার বিকেলে শালবনি মামলার তদন্তেই সিআইডি-র একটি বিশেষ দল নিউ আলিপুরে সুমিতের বাসভবনে হানা দেয়।

আইনি লড়াইয়ের এই মোড়ে সুমিতের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানান এবং বেঞ্চ বদল করে জরুরি শুনানির আর্জিও পেশ করেছিলেন। কিন্তু হাইকোর্ট সেই বিশেষ আর্জি খারিজ করে দিয়ে নিয়মিত বেঞ্চেই শুনানির নির্দেশ বহাল রাখে। অন্যদিকে, ডেবরার মামলায় সুমিতের আরেক আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের কাছে দাবি করেন যে, ২০২৩ সালের ১৪ জুন দায়ের হওয়া এই পুরনো মামলায় দীর্ঘ তিন বছর পর তাঁর মক্কেলের নাম অযৌক্তিকভাবে জড়ানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, অভিযোগকারীদের মূল দাবি অনুযায়ী প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরার মাধ্যমে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেই অপরাধমূলক ঘটনার সঙ্গে সুমিতের প্রত্যক্ষ ভূমিকার কোনো অকাট্য প্রমাণ তদন্তকারীরা আদালতে পেশ করতে পারেননি। গত সোমবার হাইকোর্টে আবেদন খারিজ হওয়ার পরই আইনি পথ ধরে সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হয়েছেন তিনি। এখন শীর্ষ আদালত এই মামলায় কী রায় দেয় এবং সুমিত রায় শেষ পর্যন্ত আইনি সুরক্ষা পান কিনা, সেটাই দেখার বিষয়।