গ্যাংটক যাওয়ার পথে বড় বিপদে পর্যটক! শিলিগুড়ি পুলিশের তৎপরতায় মুহূর্তেই ফিরল ৩৩ হাজার টাকা

বেড়ানোর আনন্দ মুহূর্তেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে পারত। কিন্তু শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে প্রতারণার শিকার এক পর্যটক ফিরে পেলেন তাঁর খোয়ানো সম্পূর্ণ ৩৩ হাজার টাকা। পর্যটকদের নিরাপত্তায় শিলিগুড়ি পুলিশের ২৪ ঘণ্টার ট্যুরিস্ট হেল্পলাইন যে কতটা কার্যকর, এই ঘটনা তারই একটি উজ্জ্বল নিদর্শন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিহারের বাসিন্দা অঙ্কিত কুমার গ্যাংটক ভ্রমণের পরিকল্পনা নিয়ে শিলিগুড়ি জংশনে আসেন। ভ্রমণের আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ট্যুর অ্যান্ড ট্র্যাভেল সংস্থার আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেখে তিনি ৩৩ হাজার টাকার একটি ট্যুর প্যাকেজ বুক করেছিলেন। ওই প্যাকেজে হোটেল, খাবার এবং দর্শনীয় স্থান ঘোরানোর সম্পূর্ণ ব্যবস্থা থাকবে বলে তাঁকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। অনলাইনে পুরো টাকা পরিশোধ করার পর তাঁকে গ্যাংটকগামী একটি গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়।

গ্যাংটকে পৌঁছনোর পরই অঙ্কিত কুমারের সামনে প্রতারণার আসল চিত্রটি ফুটে ওঠে। তিনি জানতে পারেন, তাঁর নামে কোনও হোটেলই বুক করা হয়নি। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে আতঙ্কিত পর্যটক দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে শিলিগুড়ি পুলিশের ২৪ ঘণ্টার ট্যুরিস্ট হেল্পলাইনে যোগাযোগ করেন এবং সমস্ত তথ্য বিস্তারিত জানান।

অভিযোগটি পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। ট্রাফিক এসিপি সুবীর দত্ত বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে জংশন ট্রাফিক গার্ডের আইসি রিদম সাহাকে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন। পুলিশের একটি বিশেষ দল কোনো সময় নষ্ট না করে সংশ্লিষ্ট ট্যুর অ্যান্ড ট্র্যাভেল সংস্থার অফিসে অভিযান চালায়। যদিও মূল অভিযুক্ত সেই মুহূর্তে পলাতক ছিল, তবে পুলিশ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ঘটনায় জড়িত অন্য এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। পুলিশের চাপের মুখে পড়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ওই পর্যটকের কাছ থেকে নেওয়া সম্পূর্ণ ৩৩ হাজার টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়। টাকা ফিরে পেয়ে অঙ্কিত কুমার শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

শুধু এই ঘটনাটিই নয়, পর্যটকদের স্বার্থরক্ষায় শিলিগুড়ি পুলিশ যে কতটা তৎপর, তার আরও একটি উদাহরণ সামনে এসেছে। একই দিনে অন্য এক পর্যটকের কাছ থেকে অবৈধভাবে আদায় করা ২০০ টাকাও পুলিশের হস্তক্ষেপে দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

শিলিগুড়ির পর্যটন মানচিত্রকে আরও নিরাপদ করতে এবং পর্যটকদের কোনোভাবেই যাতে প্রতারণার শিকার হতে না হয়, সেই বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে শিলিগুড়ি পুলিশ। জংশন এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে থাকা পুলিশের ট্যুরিস্ট হেল্পলাইন এখন পর্যটকদের জন্য আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে। পুলিশের এই মানবিক ও দ্রুত পদক্ষেপ পর্যটন মহলে স্বস্তি ফিরিয়েছে এবং ভ্রমণপিপাসুদের মনে সাহস জুগিয়েছে।