গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগে গ্রেফতার হলে মন্ত্রিত্ব হারাতে হবে, নতুন বিল আনছে কেন্দ্র

কেন এই বিল?
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লোকসভায় ১৩০ তম সংবিধান সংশোধনী বিলটি পেশ করেছেন। এই বিলে সংবিধানের ৭৫ অনুচ্ছেদে নতুন ৫(এ) ধারা যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী, যদি কোনও প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনও মন্ত্রীকে গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় এবং টানা ৩০ দিন কারাগারে থাকতে হয়, তবে ৩১তম দিনে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। এই আইনের উদ্দেশ্য হলো, মন্ত্রী পদে থেকে যেন কেউ দুর্নীতির সুযোগ না নিতে পারেন এবং দেশের শাসন ব্যবস্থা যেন স্বচ্ছ থাকে। এই আইন পাস হলে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মতো কোনো মন্ত্রী আর জেল থেকে সরকার পরিচালনা করতে পারবেন না।
বিলের প্রস্তাব ও বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া
এই বিলটিতে আরও প্রস্তাব করা হয়েছে যে, কোনও মন্ত্রী যদি জেল থেকে মুক্তি পান, তবে তিনি আবার তাঁর মন্ত্রিত্ব ফিরে পেতে পারেন। বিলটি আপাতত যৌথ সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানো হবে। এই বিল নিয়ে বিরোধীরা সরব হয়েছে। কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক মনু সিংভি বলেন, “সরকার বিরোধী মুখ্যমন্ত্রীদের গ্রেফতার করে ক্ষমতা দুর্বল করার চেষ্টা করছে।” তিনি আরও বলেন, শাসক দলের কোনো মুখ্যমন্ত্রীকে কখনও স্পর্শ করা হয় না। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদও এই বিলের সমালোচনা করে বলেছেন যে, কেন্দ্র এখন থেকে যেকোনও মুখ্যমন্ত্রীকে চার্জশিট বা দোষী সাব্যস্ত না করেই সরাতে পারবে, যা কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর অপব্যবহারের দরজা খুলে দেবে।
আরও দুটি বিল
এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই বিল ছাড়াও আরও দুটি বিল লোকসভায় পেশ করেন। সেগুলো হলো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রশাসনিক সংশোধনী বিল এবং জম্মু-কাশ্মীর পুনর্গঠন বিল, ২০২৫। সংসদের বাদল অধিবেশন শেষ হবে ২১শে আগস্ট, আর তাই এই বিলগুলো নিয়ে সংসদ কতটা উত্তপ্ত হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।