আকাশছোঁয়া পেট্রোলের দাম থেকে সাধারণ মানুষকে রেহাই দিতে এবং বিদেশের ওপর তেলের নির্ভরতা কমাতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে মোদী সরকার। এবার পেট্রোলে ইথানল মিশ্রণের মাত্রা এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে ৮৫ শতাংশ (E85) থেকে ১০০ শতাংশ (E100) করার প্রস্তাব দিয়েছে কেন্দ্র। গত ২৭ এপ্রিল সড়ক পরিবহন মন্ত্রক এই সংক্রান্ত একটি খসড়া বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
কী পরিবর্তন আসছে জ্বালানিতে?
বর্তমানে দেশে পেট্রোলের সঙ্গে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত ‘E20’ জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী:
এখন থেকে গাড়িতে উচ্চ মাত্রার ইথানল মিশ্রণ (E85 বা E100) ব্যবহারের পথ প্রশস্ত হবে।
কেন্দ্রীয় মোটরযান বিধিমালা, ১৯৮৯ সংশোধন করে নতুন প্রযুক্তির ইঞ্জিনের মান নির্ধারণ করা হবে।
এর ফলে ভবিষ্যতে যানবাহনগুলি পেট্রোলের পরিবর্তে প্রায় সম্পূর্ণ ইথানলেই চলতে সক্ষম হবে।
“প্রচলিত জ্বালানির (পেট্রোল-ডিজেল) কোনো ভবিষ্যৎ নেই। এগুলি যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। আমাদের যত দ্রুত সম্ভব বায়োফুয়েল এবং বিকল্প জ্বালানিতে চলে যেতে হবে।” — নীতিন গড়করি, কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রী।
কেন এই সিদ্ধান্ত? ৩টি বড় কারণ
১. দাম কমবে: পেট্রোলের তুলনায় ইথানল উৎপাদন খরচ অনেক কম। ফলে জ্বালানির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসবে। ২. আমদানি হ্রাস: ভারত প্রতি বছর বিদেশ থেকে কোটি কোটি টাকার অপরিশোধিত তেল কেনে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মতে, ২০% মিশ্রণেই বছরে প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ব্যারেল পেট্রোল আমদানি কমানো সম্ভব হয়েছে। এই মাত্রা বাড়লে দেশীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। ৩. পরিবেশ রক্ষা: ইথানল পোড়ালে কার্বন নিঃসরণ অনেক কম হয়, যা পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা নেবে।
পুরানো গাড়ির কী হবে?
উচ্চ মাত্রার ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহারের জন্য যানবাহনের ইঞ্জিনে কিছু প্রযুক্তিগত পরিবর্তন প্রয়োজন হবে। সরকার এই প্রক্রিয়াটি পর্যায়ক্রমে কার্যকর করার কথা ভাবছে। বর্তমানে এই খসড়া প্রস্তাবের ওপর সাধারণ মানুষ এবং বিশেষজ্ঞ মহলের মতামত চাওয়া হয়েছে। সবার পরামর্শ পাওয়ার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অদূর ভবিষ্যতে আপনার প্রিয় বাইক বা গাড়িটি হয়তো আর বহুমূল্য পেট্রোলে নয়, বরং ইথানলের শক্তিতেই রাজপথ কাঁপাবে।





