গরিব পরিবারের তরুণীদের জন্য সুখবর, রূপশ্রী প্রকল্পে মিলছে এককালীন আর্থিক সাহায্য, কীভাবে আবেদন করবেন?

পশ্চিমবঙ্গের হাজার হাজার গরিব পরিবারের তরুণী এবং তাদের অভিভাবকদের জন্য এল বড় স্বস্তির খবর। বিয়ের খরচ জোগাড় নিয়ে যাদের দুশ্চিন্তার শেষ ছিল না, তাদের জন্য রাজ্য সরকারের জনপ্রিয় ‘রূপশ্রী’ প্রকল্প চালু রাখার বিষয়ে নবান্ন থেকে সবুজ সংকেত মিলল। নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই এই প্রকল্প নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। তবে নবান্ন সূত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে, রাজ্যের জনকল্যাণমূলক এই প্রকল্পটি আগের মতোই চলবে এবং নতুন করে আবেদনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ২০১৮ সালে শুরু হওয়া ‘রূপশ্রী’ প্রকল্প গত ৮ বছরে রাজ্যে এক মাইলফলক তৈরি করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে ২২ লক্ষেরও বেশি দুঃস্থ পরিবারের তরুণী এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন। সব মিলিয়ে রাজ্য সরকার এই খাতে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি অনুদান প্রদান করেছে। ভোটের আগে জেলাস্তরে প্রচুর আবেদন জমা পড়েছিল, যার মধ্যে বহু আবেদনের সরেজমিন যাচাইকরণ বা ভেরিফিকেশনের কাজও শেষ হয়েছে। নতুন সরকারের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই বার্তা দিয়েছিলেন যে, জনহিতকর কোনো সামাজিক প্রকল্পই বন্ধ করা হবে না। সেই প্রতিশ্রুতি মেনেই রূপশ্রী প্রকল্পের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করা হয়েছে।

কীভাবে আবেদন করবেন এবং কারা যোগ্য?
সরকারি গাইডলাইন অনুযায়ী, এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে আবেদনকারী তরুণীর পরিবারের বাৎসরিক আয় দেড় লক্ষ টাকার কম হতে হবে। আবেদনের ক্ষেত্রে পাত্রী এবং পাত্র—উভয়কেই আইনত বিবাহযোগ্য বয়সের হতে হবে। আবেদন করার সময় বিয়ের কার্ড এবং ‘ম্যারেজ রেজিস্ট্রি’র নোটিশ কপি বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকরা সমস্ত নথি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করেন। সব তথ্য সঠিক থাকলে আবেদনের অনুমোদন দেওয়া হয়। চূড়ান্ত পর্যায়ে পাত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন করা হয় এবং সেই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই এককালীন ২৫ হাজার টাকা সরাসরি পৌঁছে যায়।

নবান্নের এই নতুন নির্দেশে খুশি জেলার বহু পরিবার। প্রকল্পের মাধ্যমে যারা আর্থিক সহায়তার অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের জন্য এটি নিশ্চিতভাবেই বড় স্বস্তি। আবেদন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকায় এবং সরকারি তরফে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ায় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলা তরুণীদের পরিবারের মুখে এখন চওড়া হাসি। সরকারি নিয়ম মেনে এখন যে কেউ স্থানীয় বিডিও বা সংশ্লিষ্ট সরকারি অফিসে যোগাযোগ করে নতুন আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। রাজ্যের এই উদ্যোগ আবারও প্রমাণ করল যে, আর্থিক অনটনের কারণে যেন কোনো মেয়ের বিয়েতে বাধা না আসে, তা নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার।