২০২৬ সালের গরমের শুরুতেই বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা যে হারে বাড়ছে, তাতে ঘুম উড়েছে পরিবেশবিদদের। এরই মাঝে বিশ্বব্যাঙ্কের (World Bank) একটি নতুন রিপোর্ট পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। রিপোর্টে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট এই চরম তাপপ্রবাহের (Heatwave) সবচেয়ে বড় মাসুল গুনতে হবে নিম্নবিত্ত এবং দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষদের। অর্থনৈতিক অসমতা এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে আরও প্রাণঘাতী করে তুলছে।
কেন গরিবরাই বেশি বিপন্ন?
বিশ্বব্যাঙ্কের তথ্যে উঠে এসেছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর কারণ:
শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের অভাব: বিশ্বব্যাঙ্কের দাবি, তাপপ্রবাহের হাত থেকে বাঁচতে প্রয়োজনীয় ‘কুলিং সিস্টেম’ বা এসির সুবিধা বিশ্বের সিংহভাগ গরিব মানুষের কাছে নেই। ফলে ঘরে এবং বাইরে— উভয় জায়গাতেই তাঁরা আগুনের শিখার মতো গরমের সম্মুখীন হচ্ছেন।
শারীরিক শ্রম ও জীবিকা: নির্মাণকর্মী, কৃষক এবং হকারদের মতো পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের চড়া রোদে কাজ করতে হয়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে চরম গরমের কারণে ভারতে প্রায় ৩.৪ কোটি মানুষ কাজ হারানোর ঝুঁকিতে থাকবেন।
স্বাস্থ্য পরিকাঠামো: গরমে অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করার ক্ষমতা নেই এই বিশাল জনগোষ্ঠীর, যা মৃত্যুহার বাড়িয়ে দিতে পারে।
ভারতের জন্য বড় বিপদ
ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশে যেখানে জনসংখ্যার বড় অংশ খোলা আকাশের নিচে কাজ করে, সেখানে তাপপ্রবাহ এখন কেবল একটি আবহাওয়া সংক্রান্ত সমস্যা নয়, এটি একটি অর্থনৈতিক সঙ্কট হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাঙ্ক সতর্ক করেছে যে, ভারতের জিডিপি-র একটি বড় অংশ (প্রায় ৪.৫%) এই তাপপ্রবাহের কারণে উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিশ্বব্যাঙ্কের দেওয়া সমাধানসূত্র
রিপোর্টে কেবল ভয়ের কথা বলা হয়নি, বরং কিছু জরুরি পদক্ষেপের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে: ১. শহুরে বনায়ন: কংক্রিটের জঙ্গল কমিয়ে শহরে বেশি করে গাছ লাগানো এবং ‘কুল রুফ’ বা ঠান্ডা ছাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করা। ২. শ্রমিকদের নিরাপত্তা: গরমের সময় কাজের সময়সীমা পরিবর্তন করা এবং পর্যাপ্ত পানীয় জল ও বিশ্রামের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা। ৩. উন্নত সতর্কতা: তাপপ্রবাহের আগাম বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে আরও দ্রুত পৌঁছে দেওয়া।
বিশেষজ্ঞের রায়: বিশ্বব্যাঙ্কের আধিকারিকদের মতে, “চরম আবহাওয়া এখন কেবল পরিবেশের সমস্যা নয়, এটি সরাসরি মানব উন্নয়নের অন্তরায়। যদি এখনই পরিকাঠামো বদলানো না হয়, তবে গরিবরা গরমে পুড়বে আর বিশ্ব অর্থনীতি পঙ্গু হবে।”
সম্পাদকের নোট: ভারতে ইতিমধ্যেই গত কয়েক দিনে তাপমাত্রা ৪০° সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গিয়েছে। ২০২৬-এর এই মরসুম যে সাধারণ মানুষের জন্য অগ্নিপরীক্ষা হতে চলেছে, বিশ্বব্যাঙ্কের রিপোর্ট যেন সেই আশঙ্কাতেই সিলমোহর দিল।





